ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » খুলনায় নানি ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

খুলনায় নানি ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনা: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুস আমান মসজিদ এলকার বিলপাড় রোডের একটি বাসা থেকে এক নারী ও তার দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ, সিআইডি ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন বেবী বেগম এবং তার দুই নাতি মোস্তাকীম ও শামীম। তারা সোনাডাঙ্গা থানার দারুস আমান মসজিদ সংলগ্ন বিলপাড় রোড এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস করতেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একই ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এর মধ্যে বেবী বেগমের মরদেহ একটি ট্রাংকের ভেতর, আর দুই শিশুর মরদেহ খাট ও ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নিহত শিশুদের মা ফাতেমা বেগম মেরী অভিযোগ করেন, তার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী রফিকুল ইসলাম তার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতেন না। তার দাবি, গত শুক্রবার রাতে রফিকুল বাড়িতে আসেন এবং শনিবার সকালে বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নিহতের মেয়ের জামাইয়ের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ফাতেমা বেগম মেরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। খুলনার সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এই ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে