ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ক্যাশলেসের পথে বাংলাদেশ, সাইবার ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুতি কতটা

ক্যাশলেসের পথে বাংলাদেশ, সাইবার ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুতি কতটা

নিউজ ডেস্ক: প্রথাগত কাগজভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরে এসে দেশের আর্থিক খাত পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপের পর এবার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ভৌত শাখাহীন, সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ডিজিটাল ব্যাংক’-এর যাত্রা। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকসেবা সহজ হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয়ও কমছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

ক্যাশলেসের পথে বাংলাদেশ, সাইবার ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুতি কতটা?

এক সময় ব্যাংকিং মানেই ছিল চেকবই হাতে নিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। ফরম পূরণ, স্বাক্ষর যাচাই এবং কাগজের ফাইলের স্তূপ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে গ্রাহকের হাতের মুঠোয়।

 

গ্রাহক আকৃষ্ট করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়মিত নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করছে। আঙুলের ছাপ ও ই-কেওয়াইসি প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক মিনিটেই ঘরে বসে ব্যাংক হিসাব খোলা যাচ্ছে। নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে বড় শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছেও পৌঁছে গেছে একীভূত ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা।

 

মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট অ্যাপের সীমা ছাড়িয়ে দেশের আর্থিক খাত এখন প্রবেশ করেছে ডিজিটাল ব্যাংকের যুগে। কোনো ভৌত শাখা ছাড়াই সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে এসব ব্যাংক। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনেও কোনো জামানত বা কাগজপত্র ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে ‘ডিজিটাল ঋণ’ বা ই-লোন।

গ্রাহকদের মতে, সবাই যদি সঠিকভাবে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারে, তাহলে খরচ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় না। প্রযুক্তি ব্যবহারে অনাগ্রহ বা অজ্ঞতাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু হলে অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমে, নিরাপত্তা বাড়ে এবং নানা ধরনের দুশ্চিন্তাও কমে যায়।

 

তবে প্রযুক্তির এই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে বড় কিছু চ্যালেঞ্জও। দিন দিন বাড়ছে সাইবার জালিয়াতি, ফিশিং লিংক এবং ওটিপি চুরির মতো অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আইটি অবকাঠামো ও ফায়ারওয়ালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা না গেলে গ্রাহকদের আমানত বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়গুলো এখনই গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে। ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পূর্ণ সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের অ্যাপ ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন নন। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফায়ারওয়াল ব্যবস্থাও এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাই ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যকর ও নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

 

একটি ক্যাশলেস ও স্মার্ট অর্থনীতি গঠনে ডিজিটাল ব্যাংকিং আগামী দিনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে এই রূপান্তরের পুরো সুফল পেতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে