নবপ্রকাশ ডেস্ক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমিকের ভাড়া বাসায় গিয়ে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত প্রেমিক শান্ত পালকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
নিহত তরুণীর নাম দিয়া বণিক (১৮)। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মধ্যপাড়া বাজার এলাকার মনি বণিকের মেয়ে। গ্রেপ্তার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল পালপাড়া গ্রামের সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহমদ নগর এলাকায় রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে শান্ত পালের সঙ্গে দিয়া বণিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সফিপুর এলাকায় শান্ত পালের সঙ্গে দেখা করতে যান দিয়া। পরে শান্ত তাকে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে সফিপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে শান্ত নিজেই দিয়ার পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর জানান। এরপর মরদেহ নিয়ে তিনি ভালুকায় নিহতের গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে স্বজনরা তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মনি বণিক বাদী হয়ে শান্ত পালকে একমাত্র আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এদিকে কালিয়াকৈরের কাথাজুড়ি এলাকায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের মামলায় রনি মিয়া (১৮) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রনি কাথাজুড়ি গ্রামের নীল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই স্কুলছাত্রীকে বেড়ানোর কথা বলে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত রনি পলাতক ছিলেন। পরে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এছাড়া স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় রনি মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মোঃ আকরাম হোসেন গাজীপুর প্রতিনিধি:
