ইংল্যান্ডের জার্সিতে রেকর্ড ভাঙার মিশন যেন থামছেই না হ্যারি কেইনের। মঙ্গলবার রাতে চেকিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। পরে আরও এক গোল করে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১-এ।কেইনের জোড়া গোলে ঘরের মাঠে চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে ইউয়েফা নেশনস লিগের ‘সি’ গ্রুপে চার ম্যাচে তিন জয় নিয়ে দুইয়ে আছে থ্রি লায়ন্সরা।ওয়েম্বলিতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে কেইনের ক্রস থেকেই আত্মঘাতী গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ভ্লাদিমির কাউফাল। এরপর ৪০তম মিনিটে মরগ্যান রজার্সের উঁচু করে বাড়ানো বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কেইন। সেই গোলেই ইংল্যান্ডের হয়ে ৯০ গোল পূর্ণ করেন তিনি।বিরতির পর আরও একবার গোলের দেখা পান কেইন। তাতে ইংল্যান্ডের হয়ে তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১-এ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯০ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড় এখন সাতজন। কেইনের আগে এই তালিকায় ছিলেন পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ইরানের আলি দাইয়ি, ভারতের সুনীল ছেত্রী, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু ও পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডফস্কি।এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে তার গোল ১৪৬টি। ১২৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় মেসি। এরপর ১০৮ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আলি দাইয়ি। কেইনের বর্তমান গোলসংখ্যা ৯১।
তবে শুধু গোলের রেকর্ডই নয়, চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন কেইন। ইংল্যান্ডের হয়ে এটি ছিল তার ১২৫তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে গোলকিপার পিটার শিলটনের জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। শিলটনের ১২৫ ম্যাচের রেকর্ডটি ১৯৯০ সাল থেকে অক্ষত ছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ই ওয়েইন রুনিকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড় হন কেইন। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে।
শিলটনের রেকর্ডও খুব শিগগির নিজের করে নেওয়ার সুযোগ আছে কেইনের। আগামী মাসে নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামলেই এককভাবে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা পুরুষ ফুটবলার হয়ে যাবেন তিনি।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে গোলের দিক থেকেও কেইন অনেক এগিয়ে। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তার ধারেকাছেও নেই কেউ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়েইন রুনির গোল ৫৩টি। তার চেয়ে ৩৮ গোল এগিয়ে কেইন।
ইংল্যান্ডের হয়ে বড় টুর্নামেন্টগুলোতেও সব রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন কেইন। বিশ্বকাপে তার গোল ১৪টি, যা গ্যারি লিনেকারের চেয়ে চারটি বেশি। অ্যালান শিয়েরারের (৭ গোল) সঙ্গে যৌথভাবে ইংল্যান্ডের পক্ষে ইউরোর ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও কেইন।
