রাশিয়ায় এ বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে চালানো এই হামলায় ইউক্রেন প্রায় ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ ড্রোন হামলা শুধু রাজধানী মস্কোকে নিশানা করে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রশাসন।
মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি। মস্কোতে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।
এছাড়া, মস্কো থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলোদিনো এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গুদামটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এসময় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন।
রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও রাতভর হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরদ অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি বেসামরিক বাসে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রোববার রাতে কিয়েভে চারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজে উঠে।
এদিন ইউক্রেনের রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো। আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে।
রাশিয়া জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে কিয়েভে তাদের এই ফায়ারপয়েন্ট নামের একটি স্থাপনাকে নিশানা করে চালানো হয়েছে। সেখানে ইউক্রেনের ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করছিল বলে দাবি মস্কোর। এসময় ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরি একটি কারখানাও হামলার নিশানা করা হয়েছিল।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দেশটির ১৩টি অঞ্চল রুশ হামলার শিকার হয়েছে। এসময় রাশিয়া ১ হাজার ৫৫০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে, দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে স্থলযুদ্ধে দুই পক্ষেরই অগ্রগতি সীমিত। ফলে, যুদ্ধের ধরনও অনেকটা বদলে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাই এখন হয়ে উঠেছে সংঘাতের অন্যতম প্রধান দিক। দুই দেশই একে অপরের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
