টান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে আতলেতিকো মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় মাথাাব্যথা যে হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে হবে না, তা কজনই বা আগে অনুমান করতে পেরেছিল! আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখার ব্যাপারে ক্লাবটি তাদের অনড় অবস্থানে অটল ছিল। তবে শেষ মুহূর্তের জন্য জমিয়ে রাখা অন্য কাজগুলো তারা ঠিক সময়ে আর শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর তাতেই বিপদে পড়তে হচ্ছে ক্লাবটিকে।
দল বদলের সময় শেষ হওয়ার পর এখন একসঙ্গে একাধিক বিপদে পড়েছে আতলেতিকো। তবে সেটা আলভারেজকে ঘিরে তৈরি হওয়া কোনো ঝামেলার কারণে নয়—আর্সেনালে যাওয়ার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দেওয়ায় সেই অধ্যায়ের আগেই ইতি ঘটেছিল। বরং শেষ দিনে প্রচুর খেলোয়াড় বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি আতলেতিকোর। আর এর ফলেই নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো অন্যান্য খেলোয়াড় কেনা-বেচার কাজ শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে।
আলভারেজকে বার্সেলোনায় বিক্রি না করাই ছিল আতলেতিকো মাদ্রিদের ডিরেক্টার মাতেউ আলেমানির সবচেয়ে বড় ভুল। ‘স্পাইডার’খ্যাত এই ফরোয়ার্ডকে বিক্রি করা হলে তা হতো ক্লাবটির ফুটবল ডিরেক্টরের জন্য এক বড় স্বস্তির নিঃশ্বাস, যা তাঁকে পরবর্তীতে বেতন সীমার মধ্যে থাকতে আর্থিক নানা কসরত করতে বাধ্য করেছিল।
বেতন সীমা হলো লিগ কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া একটি সর্বোচ্চ আর্থিক বাধ্যবাধকতা, যার চেয়ে বেশি অর্থ খেলোয়াড়দের পেছনে ব্যয় করতে পারে না কোনো ক্লাব। মূলত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্লাবের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত ঋণের ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। ফলে নির্দিষ্ট বেতনের বাজেট খালি না থাকলে কোনো ক্লাব চাইলেও নতুন কোনো ফুটবলারকে নিবন্ধন করাতে পারে না। ঠিক এখানেই ভুল করেছে আতলেতিকো।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে আতলেতিকো চারজন খেলোয়াড়কে (খিমেনেস, লেমার, কার্লোস মার্টিন এবং ওবেদ ভার্গাস) বিক্রি এবং আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর বিকল্প হিসেবে একজন লেফট-ব্যাককে দলে ভেড়ানোর শেষ সুযোগটি কাজে লাগানোর কথা। তবে কার্লোস মার্টিনের ক্ষেত্রে হিসাব কিছুটা মিলে ওঠেনি।
বিদায়ের দিক থেকে, লেমার এলচেতে যোগ দিয়েছেন এবং খিমেনেস গেছেন দেপোর্তিভোতে, যদিও অ্যাতলেতিকো এখনও এই খেলোয়াড়দের বেতনের একটি বড় অংশ পরিশোধ করে যাচ্ছে। ওবেদ ভার্গাস ও কার্লোস মার্টিন ক্লাবেই থেকে গেছেন। ওবেদ ভার্গাসকে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ধারে ছাড়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ক্লাব তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার কার্লোস মার্টিনের বিষয়টি বেশ জটিল ছিল, আলমেরিয়ার সঙ্গে যার চুক্তি একরকম পাকাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পৌঁছানোয় শেষ পর্যন্ত সেই ট্রান্সফার আর সম্পন্ন করা যায়নি।
আতলেতিকো সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে দলে ভেড়াতে না পেরে। আতলেতিকো অন্য একজন লেফট-ব্যাক খুঁজছিল। শেষ মুহূর্তে রক্ষণ ভাগের বাঁ দিককে শক্তিশালী করতে আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডারের নাম জোরালোভাবে ওঠার আগে হিউগো বুয়েনো এবং হোর্হে সালিনাসের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়েছিল।
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ তাগলিয়াফিকোকে ধারে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল; অলিম্পিক লিওঁর সঙ্গে সবকিছু একরকম চূড়ান্তও ছিল এবং খেলোয়াড় নিজেও ‘রোজিব্লাঙ্কোস’ শিবিরে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে খিমেনেস ও লেমারের ক্লাব ছাড়ার পরও পর্যাপ্ত স্যালারি ক্যাপ বা বেতনের জায়গা না থাকায় শেষ মুহূর্তে এসে ডিলটি ভেস্তে যায়।
