ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন ‘রহস্যের আস্তানা’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন ‘রহস্যের আস্তানা’

জহিরুল ইসলাম রাতুল: রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনের বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন যেন এক রহস্যঘেরা ভবনে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দফায় দফায় ভাঙচুরের শিকার হওয়া এই কার্যালয়টি বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে, সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে এবং কেন সেখানে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানে ভবনটির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে শুরু থেকেই তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। ভবনের মূল ফটক অতিক্রম করার মুহূর্তে পিছন থেকে এক ব্যক্তি এসে প্রশ্ন করেন—অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা হচ্ছে কি না। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তার পরিচয় জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পরে নিজেকে “সাধারণ নাগরিক” বলে দাবি করেন।

তখন পাল্টা প্রশ্ন ওঠে—যদি তিনি সাধারণ নাগরিক হন, তাহলে এই কার্যালয়ের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করছেন কেন? কী তার দায়িত্ব? কার পক্ষে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন?

এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে আশপাশের সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়।

ভবনের নিচতলায় ঢুকতেই দেখা যায় সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে অসংখ্য হকারের ভ্যান। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব ভ্যান থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা আদায় করা হয়। যদিও কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। ভবনের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সেখানে ভিন্ন কোনো চক্র সক্রিয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এরপর উপরের তলায় গেলে দেখা মেলে আরও বিস্ময়কর দৃশ্যের। সেখানে অবস্থানরত এক ব্যক্তির কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি পানির ব্যবসা করেন। তবে রাজনৈতিক কার্যালয়ের ভেতরে তার অবস্থান কিংবা সেখানে ব্যবসা পরিচালনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

একই ফ্লোরে পর্দা দিয়ে আড়াল করা একটি বিছানা চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে মাদক গ্রহণের বিভিন্ন উপকরণ। ঘটনাস্থলের চিত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি চোখে পড়েনি।

ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে দেখা যায় আরেক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। কয়েকজন ব্যক্তি ভবনের একটি অংশ ভেঙে সেখান থেকে রড বের করছেন। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে কেউ কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি। প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি ভবনের অবৈধ দখল ও লুটপাটের অংশ, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের মদদে চলছে এসব কর্মকাণ্ড?

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর ভবনটির সামনে “আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট” নামের একটি ব্যানার টানানো দেখা যায়। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে ওই নামে কোনো কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভবনের ভেতরে এমন কোনো অফিস, কর্মচারী বা সাংগঠনিক কার্যক্রমও চোখে পড়েনি।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যালয়টির বর্তমান অবস্থা ঘিরে তাই জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারা এই ভবন নিয়ন্ত্রণ করছে? কেন সেখানে অবাধে বহিরাগতদের আনাগোনা? প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কোথায়?

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,” আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে ভবনটির প্রকৃত অবস্থা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং সেখানে চলমান অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে