নবপ্রকাশ ডেস্ক:
অবশেষে বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপন প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের আগেই আজ মঙ্গলবার ৪ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে নানা জটিলতায় বিষয়টি ঝুলে যায়।
আজ মঙ্গলবার নতুন সরকারের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সেই সভা শুরু হয়েছে। সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভা শুরু হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রমতে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি ভিত্তিতে (জি–টু–জি) প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে এ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় এক লাখ মানুষের। সব মিলিয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির কাজ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০৩১ সালে, অর্থাৎ পাঁচ বছরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যয় ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা আসবে চীনা সহায়তা থেকে।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হলে দেশে চীনা বিনিয়োগে পোশাক, মোবাইল, জুতা, ইলেকট্রিক ও খেলাধুলা সামগ্রীর অনেক কারখানা হবে। তবে এখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ দিতে গেলে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে গ্যাস–বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সড়ক ও সেতু নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য ২০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ১২ মিটার প্রশস্ত সড়ক, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর এবং ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ জেটি স্থাপনের পাশাপাশি ২ কিলোমিটার গ্যাস লাইন, পানি সংরক্ষণাগার ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
