টপ অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দলকে একাই টেনে তুললেন মেহেদী হাসান মিরাজ।দুর্যোগের দিনে উপহার দিলেন দুর্দান্ত এক দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি।
ডারউইনে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে অধিনায়ককে ভালো সূচনা দিতে পারেননি দুই ওপেনার। স্কোরবোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।৮ বল খেলে শূন্য রানে হ্যানো জ্যাকবসের বলে স্যাম কন্সটাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ৭ রানেই প্রথম উইকেট হারায় দল।
অন্য ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও কোরি রকিচোলির শিকার হন। ৪৭ বলে চার চারের সাহায্যে ৩১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।৩৮ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ক্রিজে অনেকক্ষণ সময় কাটান অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তবে ৫৮ বল খেলে ৩টি চারে ১৬ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনিও। মুশফিকুর রহিম তো খাতা খুলতেই পারেননি, ফেরেন ৪ বল খেলে শূন্য রানে।
লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে দলের বিপদে দ্রুতই ফিরে যান অধিনায়ক শান্তও। ৫৩ বলে ৩৭ রান করে থামেন তিনি।মিডল অর্ডারে অমিত হাসানও সুবিধা করতে পারেননি, ৬১ বল খেলে করেন ১৫ রান। এরপর সৌম্য সরকার ৩৬ বলে ১৬ রান করে আউট হলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ।
তবে এরপরই শুরু হয় মিরাজের নান্দনিক ইনিংস। দলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান এই অলরাউন্ডার। লেজের সারির ব্যাটার তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক চোখধাঁধানো শট খেলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চমৎকার এক শতক।
শেষ ব্যাটার হিসেবে খালেদ আহমেদ আউট হলে ৭৫ ওভার ৫ বলে ২৬৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। তবে অন্যপ্রান্তে ১৪১ বল খেলে ১১টি চার ও ৪টি দর্শনীয় ছক্কায় ১০৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
