ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » যোগ্যতা অর্জনের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে এবার ট্রাম্পকার্ড কাতার!

যোগ্যতা অর্জনের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে এবার ট্রাম্পকার্ড কাতার!

 

স্পোর্টস ডেস্ক: মরুর বুকে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল কাতার। স্বাগতিক হিসেবে সেবার সরাসরি খেলার সুযোগ পেলেও, মনে মনে তাদের একটা আক্ষেপ ছিল—মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করে মূল পর্বে আসা। চার বছর পর, উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মেগা আসরে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে তারা। বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ১৯ দিন। আর এবারের কাউন্টডাউনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাতারের সেই অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর কোয়ালিফাইং মিশন। ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম ‘আল আনাবি’ (মরুনস) খ্যাত কাতার দল সরাসরি বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

 

এশিয়ার তৃতীয় রাউন্ডের ধাক্কা এবং ঘুরে দাঁড়ানো
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা কাতার খুব সহজেই পার করেছিল। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় তৃতীয় রাউন্ডে। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সরাসরি দুটি দল বিশ্বকাপের টিকিট পেত। কিন্তু শুরুতেই বেশ কিছু পয়েন্ট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় কাতার। শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও, সরাসরি কোয়ালিফাই করা উজবেকিস্তানের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে কাতারকে খেলতে হয় চতুর্থ রাউন্ডের কঠিন প্লে-অফ।

 

সেই বাঁচা-মরার ম্যাচ এবং পেড্রো-খুখির ম্যাজিক
চতুর্থ রাউন্ডে ৩ দলের সংক্ষিপ্ত গ্রুপে কাতারের সামনে সমীকরণ ছিল অত্যন্ত জটিল—কেবল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই মিলবে আমেরিকার টিকিট। ওমানের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ড্র করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে ম্যাচটি কাতারের জন্য রূপ নেয় ‘ডু অর ডাই’ ফাইনালে।

 

টানটান উত্তেজনার সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় কাতার। দলের দুই অভিজ্ঞ তারকা পেড্রো মিগুয়েল এবং বুয়ালেম খুখির অসাধারণ দুটি গোলে ২-১ ব্যবধানে আমিরাতকে হারিয়ে স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসের জোয়ার ভাসায় কাতার। এই ঐতিহাসিক জয়ে ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয় তারা।

 

লোপেতেগির মাস্টারক্লাস ও ২০২২-এর প্রতিশোধের মঞ্চ
কাতারের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের হাই-প্রোফাইল স্প্যানিশ কোচ হুলেন লোপেতেগির (Julen Lopetegui)। রিয়াল মাদ্রিদ এবং স্পেন জাতীয় দলের সাবেক এই মাস্টারমাইন্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর কাতারের খেলায় ইউরোপীয় ঘরানার ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা এনে দিয়েছেন।

 

ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার পড়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অন্যতম সহ-স্বাগতিক কানাডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ইউরোপীয় পরাশক্তি সুইজারল্যান্ড। ২০২২ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে কাতার তাদের তিনটি ম্যাচেই (নেদারল্যান্ডস, সেনেগাল ও ইকুয়েডর) হেরেছিল। ৩ ম্যাচে মাত্র ১টি গোল করার বিপরীতে হজম করতে হয়েছিল ৭টি গোল, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড। এবার লোপেতেগির অধীনে আকরাম আফিফ ও আলমুয়েজ আলিদের নিয়ে গড়া কাতার দল সেই লজ্জাজনক স্মৃতি ভুলে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন করে চেনাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

 

প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য:
১. লোপেতেগির মিশন: ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের কোচের দায়িত্ব থেকে নাটকীয়ভাবে বরখাস্ত হওয়া লোপেতেগির সামনে এবার নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রমাণ করার এটিই সবচেয়ে বড় সুযোগ।
২. আফিফ-আলমুয়েজ জুটি: বাছাইপর্বে কাতারের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন এশিয়ান কাপের নায়ক আকরাম আফিফ (১১টি অ্যাসিস্ট) এবং আলমুয়েজ আলি (১২টি গোল)। এই জুটির ফর্মের ওপরই নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বে কাতারের ভাগ্য।
৩. কঠিন লজিস্টিকস: গ্রুপ পর্বে কাতারকে খেলতে হবে ভ্যাঙ্কুভার (কানাডা) এবং সিয়াটেল (যুক্তরাষ্ট্র) এর মতো ভিন্ন জলবায়ুর ভেন্যুতে, যা মধ্যপ্রাচ্যের গরম আবহাওয়ায় অভ্যস্ত কাতারি ফুটবলারদের জন্য বড় শারীরিক পরীক্ষা হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে