ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » স্টারলিংক ঠেকাতে তৎপর ইরান, নিচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ

স্টারলিংক ঠেকাতে তৎপর ইরান, নিচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বন্ধে অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপেরও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরিচালিত স্টারলিংক ইরান সরকারের ইন্টারনেট ফিল্টারিং ও বিধিনিষেধ এড়িয়ে অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দেশটিতে সেবাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্টারলিংক ব্যবহার ও এর টার্মিনাল বিতরণের জন্য কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ দুই দফায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন। জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় টানা তিন সপ্তাহ এবং চলমান যুদ্ধের শুরুর দিকে ৮৮ দিন ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি স্টারলিংককে শত্রুপক্ষের ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এটি শত্রুপক্ষের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয়। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট টার্মিনাল বন্ধ করার একাধিক ব্যবস্থা তাদের হাতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংযোগ বন্ধ করা হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানাননি আগামিরি।

স্টারলিংক ব্যবহারে কারাদণ্ডের বিধান

ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার বা নিজেদের কাছে রাখার জন্য ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ডিভাইস আমদানি ও বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।

তেহরানভিত্তিক এক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, স্টারলিংকের সংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে বিভিন্ন ধরনের জ্যামার ব্যবহার করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভুয়া জিপিএস অবস্থানের সংকেত দিয়ে নতুন ডিভাইস চালু করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় অ্যাপ ও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হলে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট প্রোটোকল শনাক্ত করার চেষ্টাও করা হয়।

 

এ ছাড়া টহল, ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং স্টারলিংক টার্মিনাল বিক্রির স্থানে অভিযান চালিয়ে ডিভাইস জব্দের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত জুনে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেন, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় ইসরাইল ইরানে কয়েক হাজার স্টারলিংক ডিভাইস পাচার করেছিল। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা

স্টারলিংকের সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে ২০২৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের রেডিও রেগুলেশনস বোর্ডেও বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে ইরান। গত ৪ অক্টোবর তেহরানে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অননুমোদিত স্টারলিংক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইরানের উপপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে বলেন, স্টারলিংকের ব্যবহার ব্যাপক হলে তা দেশটির সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি জানান, ২০১৭-১৮ সালের বিক্ষোভের পর টেলিগ্রাম বন্ধ করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় প্রথমবারের মতো এক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হয়। পরে ২০২২-২৩ সালের বিক্ষোভের পর হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

হাকামি বলেন, স্টারলিংকের ব্যবহার এভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সংকটের সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নিতে হতে পারে। কারণ, স্টারলিংক ইরানের নিজস্ব নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।

২০২২ সাল থেকে ইরানে বিক্ষোভের ভিডিও বিদেশে পাঠাতে স্টারলিংক ভূমিকা রেখেছে। দেশটিতে কয়েক দশ হাজার টার্মিনাল পাচার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

 

তবে উচ্চ ব্যয়, ডিভাইসের সীমিত প্রাপ্যতা এবং সরকারি অভিযানের ঝুঁকির কারণে অধিকাংশ ইরানি এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ পান না। তাদের অনেকেই ভিপিএনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্যে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু এসব প্রযুক্তিতে সংযোগের গতি কমে যেতে পারে, খরচ বাড়তে পারে এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

হোয়াটসঅ্যাপ চালুর সম্ভাবনা, অনিশ্চিত ইউটিউব

ইরান সরকার বলছে, সাইবার হামলা থেকে নাগরিক ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য কখনো কখনো ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেইস ও ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাইবারস্পেস নীতি ও পরিচালনাসংক্রান্ত একটি নথিতে কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, গুগল প্লে ও হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় চালু করা হতে পারে। তবে ইউটিউব ও টেলিগ্রাম চালু করতে হলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে।

প্ল্যাটফর্মগুলো কবে চালু হতে পারে, সে বিষয়ে নথিতে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধ শিথিল হবে, নাকি যুদ্ধের কারণে আরও কঠোর হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে