ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সমুদ্রে তাণ্ডব ও বন্দিদশা: বাংলাদেশি নাবিকদের দুঃসাহসিক ফিরে আসার গল্প

সমুদ্রে তাণ্ডব ও বন্দিদশা: বাংলাদেশি নাবিকদের দুঃসাহসিক ফিরে আসার গল্প

চোখের সামনে মাত্র ২০০ মিটার দূরে বিকট শব্দে জ্বলছিল তেলের বিশাল সংরক্ষণাগার। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, আর চারদিকে আছড়ে পড়া গোলাবারুদের ভয়াল তাণ্ডব। এর মধ্যেই হঠাৎ অকেজো হয়ে পড়ে জাহাজের মূল নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। পারস্য উপসাগরে তখন কেবলই মৃত্যুর পদধ্বনি। এমন এক জীবন্ত নরককূপ থেকে ৩১ জন নাবিকের প্রাণ, ৪ কোটি ডলার মূল্যের জাহাজ এবং ৮২ লাখ ডলারের সরকারি মালামাল অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে এনে অলৌকিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশি নাবিক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইসলাম।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের বহির্নোঙরে টানা চার মাস অবরুদ্ধ ও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৫১ বছর বয়সী এই সাহসী ক্যাপ্টেন তুলে ধরেছেন সেই দুঃসহ ও রোমাঞ্চকর দিনগুলোর কথা।

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের মানসিক অবস্থার কথা স্মরণ করে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, “চারদিকে তখন শুধুই হাহাকার আর মৃত্যুর আতঙ্ক। যেকোনো মুহূর্তে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত আমাদের সবাইকে ছাই করে দিতে পারত। কিন্তু জাহাজপ্রধান হিসেবে আমাকে যেকোনো মূল্যে শান্ত থাকতে হয়েছিল। কারণ আমার ওপর ন্যস্ত ছিল ৩১টি অমূল্য জীবন এবং কোটি কোটি ডলারের জাতীয় সম্পদের চূড়ান্ত দায়িত্ব।”

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি জানান, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের চার্টারে পরিচালিত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নিয়ে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে নোঙর করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত মারাত্মক রূপ নেওয়ার প্রায় এক মাস আগে জাহাজটি সেখানে পৌঁছায়।

কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন অতিসংবেদনশীল ‘স্টিল কয়েল’ বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। কিন্তু বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর পরই আকাশ ও সাগরের পরিবেশ এক মুহূর্তে বদলে যায়। রণক্ষেত্রের সেই থমথমে মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ক্যাপ্টেন বিষণ্ণ কণ্ঠে বলেন, “তখনই বাতাসে যেন তীব্র অশনিসংকেত ভেসে আসছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এক ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।”

টানা চার মাস সীমিত খাবার, সার্বক্ষণিক আক্রমণের ঝুঁকি এবং স্বজনদের সাথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় নাবিকদের মনোবল ধরে রাখাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ক্যাপ্টেন ইসলামের দৃঢ় নেতৃত্ব ও কৌশলী অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো হতাহত ছাড়াই জাহাজ ও বিপুল পরিমাণের মালামাল নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে