নবপ্রকাশ ডেস্ক:
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত এ নতুন তারিখ ধার্য করেন। তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী সিএনএসকে মোট টোল আদায়ের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকার বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই কাজের জন্য ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। পরবর্তীতে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে একই ধরনের প্রযুক্তির জন্য তিন বছরের সমপরিমাণ ব্যয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, সিএনএসকে এ চুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
এ ঘটনার অভিযোগে গত বছরের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করে দুদক।
