ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শিশুর প্রতি সহিংসতায় রাষ্ট্রপতির ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

শিশুর প্রতি সহিংসতায় রাষ্ট্রপতির ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বিদ্যালয়ের পথ থেকে শুরু করে ক্লাসরুম, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুদের পূর্ণ নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও সম্মানজনক মর্যাদা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তাদের শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর প্রতিটি কন্যাশিশুর সুরক্ষা দেওয়া পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।”

দুই কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে আমার সন্তানদের মুখ দেখতে পাই। তাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা আমার জন্য কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।” তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেয়েদের বিয়ের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে বিনিয়োগ করতে হবে এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে শেখাতে হবে। আত্মরক্ষার জন্য কন্যাশিশুদের মার্শাল আর্ট শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশু বিয়ে কেবল একটি বিয়ে নয়; এটি একটি মেয়ের পুরো শৈশবকে থামিয়ে দেয় এবং সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটায়। বাল্যবিয়ে রোধে উপজেলা পর্যায়ে কিশোরীবান্ধব মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও হেল্পলাইন সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তায় বেগম খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে গেছেন। তিনি নারীদের জন্য উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।” বর্তমানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। এ ছাড়া দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম, এনজিসিএএফ-এর সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান প্রমুখ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে