মো.সায়েদিল মোরছালিন,জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দীর্ঘদিনের বাজেট বৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তি চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখা।
বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। এ সময় তারা নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট ও বৈষম্যের বিষয়গুলো সামনে আনেন।
অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান করছেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— “বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস” এবং “রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার”।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।
তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সম্পূরক বৃত্তি কিংবা বিশেষ রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে আবাসন সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ ব্যয়ে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে বাজেটের পাতায় চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বেগম জিয়ার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ অবহেলা আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাসের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছি— এই বাজেট বৈষম্য দ্রুত দূর করতে হবে। জবিয়ানদের আর অবহেলা করা চলবে না।”
সংগঠনটির সদস্য সচিব শাহিন আলম বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পূরক বৃত্তি পেলেও জবির শিক্ষার্থীরা তা থেকে বঞ্চিত। সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার, এটি কোনো দয়া নয়। আজ আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সামনে সেই দাবিই তুলে ধরেছি। দ্রুত আবাসন সংকট, বাজেট স্বল্পতা ও শিক্ষার্থীদের বৃত্তির বিষয়টি সমাধান না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রশক্তি কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে উত্থাপিত এসব দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বাজেট সংকট, আবাসন সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো সমাধানে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে।
এস এম/ জে আই আর
