ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শাহজালাল বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা মোকাবিলার মহড়া

শাহজালাল বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা মোকাবিলার মহড়া

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনা, উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, দ্রুততম সময়ে যাত্রী উদ্ধার এবং আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত দক্ষতা ও প্রস্তুতি যাচাই করতে এক পূর্ণাঙ্গ ফায়ার ও রেসকিউ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমানবন্দরে এ ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ আয়োজন করা হয়।

মহড়ার শুরুতেই বাস্তবমুখী একটি কাল্পনিক সংকটময় পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হয়। গল্পসংক্ষেপে দেখানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়ে আসা একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে রানওয়েতে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। একই সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরীণ কন্ট্রোল প্যানেলে গুরুতর প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে বিষয়টি অবহিত করেন পাইলট।

সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে এটিসি বিমানবন্দরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং বেবিচক, উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়। ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি প্ল্যান’ কার্যকর করে বিভিন্ন জরুরি সংস্থা ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া দেয়।

মহড়ার দ্বিতীয় ধাপে দেখানো হয়, জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে রানওয়ের মধ্যরেখা অতিক্রম করে তীব্র গতিতে এগোতে থাকে। একপর্যায়ে ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে গিয়ে ছিটকে পড়ে এবং বিমানটির নিচের অংশ থেকে পুরো গায়ে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি), বিশেষ উদ্ধারকারী দল, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে যাত্রীদের সুসংগঠিতভাবে বিমান থেকে বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সুরক্ষার বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আন্তসংস্থা সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার উল্লেখ করেন, জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দক্ষ জনবল, আধুনিক সরঞ্জাম ও সমন্বিত তৎপরতা আবশ্যক।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বাস্তবভিত্তিক মহড়ার মাধ্যমে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত জনবলের দক্ষতা ও উদ্ধার সরঞ্জামের কার্যকারিতা সরাসরি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ। অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুশীলনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বেশি আধুনিক করতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে