ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ‘লোকসান কাটাতে’ জ্বালানির দাম বাড়াল বিপিসি

‘লোকসান কাটাতে’ জ্বালানির দাম বাড়াল বিপিসি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে জ্বালানি তেলের দাম, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরবৃদ্ধি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার জারি করা এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্য। এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

বিপিসির বিপুল লোকসান ও আইনি চাপ

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বৃদ্ধির ফলে তাদের আমদানি ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে যেখানে জ্বালানি আমদানিতে বিপিসির ব্যয় হয়েছিল ৪,১৯৫ কোটি টাকা, চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮,১৩৫ কোটি টাকায়। মে মাসে আমদানি খরচ ৪,১৮২ কোটি টাকা থেকে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ১৩,৪৮৫ কোটি টাকা এবং আগস্টে ২,৭৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭,৬০৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়।

আমদানি ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে বিপিসির নিজস্ব তহবিলের লোকসান দাঁড়িয়েছে ২২,৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কেবল এপ্রিলেই লোকসান হয় ৭,৮৬৬ কোটি টাকা এবং জুনে ৬,১৯৮ কোটি টাকা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এই লোকসান ৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববাজারের বর্তমান দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছিল, যার কারণে সংস্থাটিকে দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকা গুনতে হতো। শুধু ডিজেল খাত থেকেই বছরে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা ছিল। নতুন করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে দাবি করা হয়।

অর্থ সংকট ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠায় বিপিসি। চিঠিতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের সমপরিমাণ অর্থ সরকারি ভর্তুকি বা সহায়তা হিসেবে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় এবং চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক-কর কমানো বা প্রত্যাহারের জোর প্রস্তাব করা হয়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উঠে আসে, বিপিসির কাছে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য মাত্র ১৫ দিনের অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে।

বিপিসির তথ্য মতে, দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যেখানে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে সংস্থাটির ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ১২,৩৬৮ কোটি টাকা। যদিও পরিস্থিতি সামলাতে ব্যাংক থেকে ইতিমধ্যে তারা প্রায় ১৯,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বৈঠকে বিপিসিকে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা জরুরি সরকারি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো ছাড় করা হয়নি। এমন অচলাবস্থা কাটাতেই শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে তেলের দাম বাড়ানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে