বিনোদন ডেস্ক:
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের টাঙ্গাইল শহরের পৈতৃক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনটি স্টিলের আলমারি ও কাঠের ওয়্যারড্রোপ ভাঙচুর করে আসবাবপত্র তছনছ করেছে। ঘরের ভেতরে আলমারিতে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ও নথিপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান (রোজি)। এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকায় অবস্থিত অভিনেতার পৈতৃক ভিটায় এই চুরির ঘটনাটি ঘটে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল শহরের ওই পৈতৃক বাড়িতে মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান একা বসবাস করেন। কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় আসেন এবং যাওয়ার সময় বাড়িটি দেখার দায়িত্ব দিয়ে যান পরিবারটির পূর্বপরিচিত শফিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে শফিকুর পুরো বাড়ি যথাযথভাবে তালাবদ্ধ করে কাজে বাইরে যান। বিকেল ৫টার দিকে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান বারান্দার গ্রিলের বড় তালাটি ভাঙা। ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখেন ঘরের মেঝেতে কাপড়-চোপড় ও বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া ঘরে থাকা তিনটি স্টিলের আলমারির লক ভাঙা এবং কাঠের একটি ওয়্যারড্রোপের ড্রয়ার খোলা অবস্থায় ছিল।
ঘটনার বিষয়ে আফিয়া খান জানান, ওই আলমারিগুলোতে নাট্যকার মামুনুর রশীদসহ তাঁর নয় ভাই-বোনের অনেক স্মারক, পারিবারিক নথি ও মূল্যবান জিনিসপত্র সংরক্ষিত ছিল। তিনি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থান করায় ঠিক কী পরিমাণ মূল্যবান জিনিসপত্র বা অর্থ খোয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি নিছক সাধারণ চুরি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা শত্রুতা রয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
এ বিষয়ে নাট্যজন মামুনুর রশীদ মুঠোফোনে জানান, টাঙ্গাইলের পৈতৃক বাড়িতে তালা ভেঙে আলমারি ও ঘর তছনছ করার খবরটি তিনি ভাই-বোনদের মাধ্যমে শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই বাড়িতে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট জিনিসপত্র চুরি হয়েছে কি না, তা স্বজনদের উপস্থিতিতে তালিকা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
