ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে হামলায় নিহত ১, আহত ১

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে হামলায় নিহত ১, আহত ১

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে এক হামলায় ছত্তিশগড়ের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেই, অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অনন্তনাগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেটিই ছিল গত বছরের পাহেলগাম হামলার পর উপত্যকায় প্রথম হামলা।

জম্মু-কাশ্মীরের দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কিলাম গ্রামে সন্দেহভাজনদের গুলিতে এক অ-স্থানীয় শ্রমিক নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ভি কে বার্দি এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকের নাম দীপক এবং আহত শ্রমিকের নাম ভূপেন্দর। দু’জনই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা এবং একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। ভূপেন্দরের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

এই হামলার ১০ দিন আগে অনন্তনাগ জেলার একটি ব্যস্ত বাজারে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়া, এক বছরেরও বেশি আগে পাহেলগামে এক হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হওয়ার পর এটিই উপত্যকায় অ-স্থানীয়দের লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

মনোজ সিনহা বলেন, ঘটনার পর তিনি পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) নলিন প্রভাত এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান শুরু করেছে, যাতে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। আহত শ্রমিককে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ও সমগ্র দেশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

মেহবুবা মুফতি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে তারা বাড়ি থেকে অনেক দূরে কঠোর পরিশ্রম করেন। এমন নিরীহ শ্রমিকদের ওপর এ ধরনের অর্থহীন সহিংস হামলা অত্যন্ত নির্মম।’

২০২১ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ১৫ জনের বেশি অ-স্থানীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। লক্ষ্য করে চালানো বিভিন্ন হামলায় অন্তত আটজন অ-স্থানীয় শ্রমিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

এর আগে একই বছরের ১৭ এপ্রিল অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারা এলাকায় বিহারের এক অভিবাসী শ্রমিককে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীনগরের শাল্লাকদাল এলাকায় পাঞ্জাবের অমৃতসরের দুই কাঠমিস্ত্রিকে গুলি করা হয়। তাদের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপরজন পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এছাড়া ২০ অক্টোবর শ্রীনগর-লেহ মহাসড়কের গান্দেরবাল জেলার সোনমার্গের কাছে একটি নির্মাণশ্রমিক ক্যাম্পে হামলায় সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন অ-স্থানীয়। বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে নিয়োজিত নির্মাণশ্রমিকদের ওপর উপত্যকায় এটিই ছিল প্রথম বড় ধরনের হামলা।

গত দুই দশকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকরা কাশ্মীরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি হলেও পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক সেখানে কাজ করেন।

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে সমন্বিত কোনো সরকারি তথ্য নেই। তবে শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ধারণা, সেখানে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা ৪ লাখের মতো। অন্যদিকে, অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করা গবেষকরা এবং ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে করেন, শুধু কাশ্মীর উপত্যকাতেই এ সংখ্যা ১১ লাখের বেশি হতে পারে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিহত ও আহত দুই শ্রমিককেই খুব কাছ থেকে (পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে) গুলি করা হয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে