বৈশাখে শ্রাবণের ধারা: জবুথবু নগরবাস
নবপ্রকাশ রিপোর্ট:
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় দিনভর প্রচন্ড বৃষ্টিতে প্রায় অচল হয়ে যায়। আর ঢাকার আকাশ রাত থেকেই ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা, ভোর হতেই হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে যায় রাজধানী। দিনের শুরুতেই এমন বৃষ্টিপাতে একদিকে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় ভোগান্তির কারণ। বৃষ্টির প্রভাবে সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবীরা। অনেকেই প্রস্তুতি ছাড়াই বের হওয়ায় ভিজে যান, কেউ কেউ আশ্রয় নেন পাশের দোকান বা ভবনে। ছাতা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পোশাক ও জুতা ভিজে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়
আকাশের কালো মেঘ অন্ধকার করে রেখেছে চারদিক। এ যেন আষাঢ়-শ্রাবণের দিন।
বৃষ্টি শুধু রাজধানীতেই নয়, হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া অফিস গতকাল মঙ্গলবার সকালেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময় কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাও হবে বলে জানায় তারা। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয় পূর্বাভাসে।
সকাল থেকে ঢাকা শহরের যে হারে বৃষ্টি পড়েছে তাতে জন চলাচল অনেকটাই স্থগিত হয়ে পড়ে। আকাশ ঢেকে আছে কালো মেঘে। সকল দশটায় যখন মিরপুর লিখছি তখনও মেঘের গর্জন এবং মুষলধারায় বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আজ রাজধানীতে এ অবস্থা চলতে পারে দিনভর। হয়তো মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কমে যেতে পারে তারপর আবার শুরু হতে পারে। বেলা ১১টার পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না–ও হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস থেকে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে কালবৈশাখীর সঙ্গে তাদের বক্তব্য মিলছে না। কালবৈশাখী মানে প্রবল ঝড়ো হাওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ব্যাস আবার থেমে গেল। বিদ্যুৎ চমকাবে ঘরবাড়ি গাছপালা উপড়ে পড়বে তারপরে শান্ত হবে। সেটাই কালবৈশাখী নামে পরিচিত। কিন্তু রাজধানীতে গতকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কেন?
এ প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশের ভেতরে যে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে তা সরতে সময় নিচ্ছে। একটি সিস্টেম তৈরি হয়েছে সাগরে, এরও প্রভাব আছে। এ সময় এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এখন টানা বৃষ্টি হবে না। থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। মাঝেমধ্যে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। পরে তা আবার চলতে পারে।
