স্পোর্টস ডেস্ক: ঘরের মাঠে দাপুটে ফুটবল খেলেই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে মেক্সিকো। শক্তিশালী দলগত পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকা-কে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। গোল করেছেন জুলিয়ান কুইনন্স ও রাউল জিমেনেজ।
তবে ম্যাচের স্কোরলাইনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল রেফারিং। উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেছে তিনটি লাল কার্ড, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই এবং মেক্সিকোর একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়েন। ম্যাচজুড়ে কঠোর সিদ্ধান্ত দিয়ে রেফারিরা যেন পুরো টুর্নামেন্টের জন্যই কড়া বার্তা দিয়ে রাখলেন।
শুরুর দিকে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল দেখা গেলেও সময় যত গড়িয়েছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় মেক্সিকো। বল দখলে রেখে ধারাবাহিক আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৯ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডারের ভুলে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন জুলিয়ান কুইনোন্স। গোলকিপারের পাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন এক ডিফেন্ডার, আর সেই সুযোগে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি মেক্সিকান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মেক্সিকো। একবার পোস্টেও আঘাত হানে তাদের শট।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মেক্সিকো। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমন্বিত ফুটবলে বারবার চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৫০ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে বক্সের বাইরে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার ইয়া ইয়া শিথোলে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আরও চাপে পড়ে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন রাউল জিমেনেজ। গোলের পর পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় মেক্সিকান সমর্থকদের উল্লাস।
পুরো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। ২০১০ বিশ্বকাপে যে প্রাণবন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখা গিয়েছিল, এই ম্যাচে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। সমন্বয়হীন ও ছন্নছাড়া ফুটবলে স্বাগতিকদের জন্য তেমন কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ম্যাচের যোগ করা সময়ে একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সিজার মন্টেস। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের মেক্সিকোও সহজেই ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মেক্সিকো বুঝিয়ে দিল, ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে না।
