নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসেন শুভর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর মুগদা থানাধীন আহমেদবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহমেদবাগের ৫৮/১১ নম্বর বাসায় একাই বসবাস করতেন তানভীর হোসেন শুভ। কয়েকদিন ধরে তাকে বাইরে দেখা না যাওয়ায় এবং তার বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় একটি কক্ষের ভেতরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তানভীর হোসেন শুভর মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
মৃত তানভীর হোসেনের পক্ষ থেকে তার ভাই এবং ভাইয়ের স্ত্রী ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন তবে এ ঘটনায় অতিরিক্ত মর্মাহত হওয়ার কারণে গণমাধ্যমের সঙ্গে তারা কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না।
ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মরদেহ নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী (ডোম) এসে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বলে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসানুল্লাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে মৃতের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, মৃতের বড় ভাইয়ের সাথে তিনি কথা বলেছেন এবং তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন মৃত ব্যক্তি ডিভোর্স প্রাপ্ত ছিলেন যার কারনে তিনি মানসিকভাবে অনেকটাই একাকীত্ব বোধ করতেন। একাকিত্ব ভাবে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি অন্য কোন বিষয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।
মুগদা থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
জে আই আর
