নবপ্রকাশ ডেস্ক:
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের, স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করা হয়।এমন একটা খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক প্রথম আলো। তবে ২০২৩ সালে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, এস আলম পরিবারের ১৩ জন সদস্য বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন যাতে বাংলাদেশ থেকে যে টাকা তারা লুট করে নিয়ে গেছে সেটা আর ফের দিতে হবে না।
নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। সাইফুল আলম গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে আবার আবেদন করেছেন।
*স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের আইনি অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে,যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন তাহলে আবার কেন নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য আবেদন করেছেন?
আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এস আলমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তিনি ব্যাংক দখল, ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের আইনি অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সাইফুল আলম ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করছেন। তাহলে তিনি কীভাবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানির নামে ব্যাংকঋণ নিয়েছেন—এ প্রশ্ন উঠবে।
সূত্রগুলো বলছে,আইনি নথি অনুযায়ী, এস আলম পরিবারের সদস্যরা ২০২০ সালে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন।
