ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকান্ড হয় যে কারণে

ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকান্ড হয় যে কারণে

নবপ্রকাশ ডেস্ক:
ঢাকার পল্লবীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণীর একটি কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষ করে মেয়েশিশুরা কতটা নিরাপদ, পরিবারগুলো কীভাবে ঝুঁকি চিনবে এবং সন্তানকে নিরাপদ রাখতে কী ধরনের সচেতনতা জরুরি ‒ এসব প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।
মেয়ে শিশুরা যৌন হেনস্থার শিকার হয় মূলত পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন এবং কাছের মানুষ দ্বারা। যে শিশুর উপর এই নির্যাতন হয় সে খুব সহজেই অপরাধীকে চিনে ফেলে। আর সেখানেই হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা। বাংলাদেশে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। যৌন হেনস্তার শিকার মেয়েটি যদি আদালতে মামলা করে তাহলে অপরাধী মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে। একইভাবে বলা যায় হত্যাকান্ডের জন্য আমাদের এখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফলে অপরাধী যখন দেখে ভিকটিম আদালতে যেতে পারে এবং নিশ্চিতভাবে অপরাধী অভিযোগের ভিত্তিতে তার মৃত্যুদণ্ড হবে সে ক্ষেত্রে অপরাধীকে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে মেরে ফেলাই তার কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে হয়। সে কারণেই এসব নৃশংস হত্যাকান্ড হয়ে থাকে। অধিকাংশ হত্যাকান্ড হয় মূলত অপরাধীকে চিনে ফেলার কারণে।
এখন পর্যন্ত পুলিশ যতটুকু জানিয়েছে তাতে বুঝা যায়,সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি ফ্ল্যাটে শিশুটিকে প্রথমে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার মাথার অংশটি পাওয়া যায় টয়লেটে এবং শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।
ঘটনার দিন, গত ১৯শে মে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে আসামি মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু শিশুটির মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কারণ যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, সেটি ছিল রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাট এবং এই হত্যাকাণ্ডে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন রামিসাদের প্রতিবেশী। তাই, অনেকেই লিখছেন, শুধু প্রতিবেশী না, আত্মীয়স্বজনকেও যেন শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্ধবিশ্বাস না করা হয়।
অনেকেই হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন চলন্ত বাস কিংবা চলন্ত ট্রেনে নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। তবে এই ধর্ষণের হার খুব কম এবং এক্ষেত্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে কদাচিৎ।
এ ব্যাপারে অনেক কিছুই লেখা সম্ভব। তবে আপাতত এই কথাটুকু বলা জরুরী যে ,ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড থেকে ভিকটিমকে বাঁচাতে হলে আইনের বিধানে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরী বলে মনে হয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে