ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর ডাক!

দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীর ডাক!

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, অন্যায় এবং অপশাসনের যে বিশাল পাহাড় গড়ে উঠেছিল, তা চূর্ণ করে একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বলিষ্ঠ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে তিনি যেভাবে দেশের সার্বিক চিত্র এবং দুর্নীতির গভীর ক্ষত তুলে ধরেছেন, তা কেবল একজন রাষ্ট্রনায়কের সাহসী উচ্চারণই নয়, বরং পঁচাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা।

স্বাধীনতার ৫৬ বছরে এসেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ও সার্বভৌমত্বের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মূলত সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই। গত দেড় দশকে পতিত ফ্যাসিবাদের আমলে এই দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। দুর্নীতির এই দীর্ঘ ও ভয়াল ছায়া সচিবালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে ছড়িয়ে পড়েছে একেবারে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো সুনির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায়। মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাচার, ব্যাংক খাত খালি করে দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। পতিত সরকারের এই বিপুল লুণ্ঠনের ফলে জমকানো ঋণের বোঝা আজ বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যখন যেকোনো সরকারি সেবা নিতে যায়—তা ইউনিয়ন পরিষদের একটি নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, ভূমি অফিসের মিউটেশন, কিংবা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসায়—প্রতিটি পদে তাকে ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি দফতরগুলোতে টেবিলের তলা দিয়ে সুবিধা না পৌঁছালে সাধারণ মানুষের ফাইল নড়ে না। এই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের থালায়।

আমাদের সমাজে দুর্নীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ভয়াবহ রূপগুলো উন্মোচিত হয়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট অপরাধচক্রের মাধ্যমে। মাদকের ভয়াল থাবা আজ দেশের যুবসমাজকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা কেবল সামাজিক অবক্ষয়ই ডেকে আনছে না, বরং এর পেছনে কাজ করছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ পাচার ও প্রশাসনিক আশকারা। এই মাদক চক্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সন্ত্রাস, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বারবার বিঘ্নিত করেছে। হাট-বাজার, পরিবহন খাত, কিংবা ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা প্রতিটি পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে সাধারণ ক্রেতার পকেট খালি করছে। দখলবাজির মহোৎসবে আজ সরকারি জমি, নদী-নালা, এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও রেহাই পায়নি।

উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ চুরির প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছিল টেন্ডারবাজি, যেখানে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ না রেখে ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নেওয়া হতো এবং নিম্নমানের কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করা হতো। তদুপরি, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্য দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ভেতরে ভেতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে কোটি টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করার কারণে সৎ ও মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে, আর ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিরা পরবর্তীতে দ্বিগুণ উৎসাহে দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে। একইভাবে, সুবিধাজনক পদে যাওয়ার জন্য যে বদলি বাণিজ্য চলেছে, তা সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ধ্বংস করে কেবল অনৈতিক উপার্জন বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, দুর্নীতি কেবল বর্তমানকে কষ্টকর করে তোলে না, তা দেশের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেয়। মেধা ও নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আজ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। যোগ্যতার পরিবর্তে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের বিনিময়ে চাকরি বণ্টনের যে চর্চা ফ্যাসিবাদী আমলে গড়ে উঠেছিল, তা তরুণ সমাজকে চরম হতাশায় ঠেলে দিয়েছিল। মেধাবীরা বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছে, আর যারা দেশে থাকছে তারা মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। সবচেয়ে মর্মান্তিক সত্য হলো, অর্থনৈতিক জাতীয় স্বার্থকে বিকিয়ে দেওয়ার অপরাধ। বিগত সরকার নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রকে সুবিধা দিতে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপই নেয়নি। অন্য দেশকে নির্বিঘ্নে সুবিধা দিতে গিয়ে জাতীয় সম্পদকে ফেলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট আজ শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে গৃহস্থালি জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু সরকারপ্রধান এসেছেন, কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন আপসহীন ও সাহসী উচ্চারণ এর আগে কেবল একজনই করেছিলেন—তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের সেই একই ধারায় আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বজ্রকণ্ঠ। একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের প্রধান কাজই হলো সংকটকে চিহ্নিত করে সাহসের সঙ্গে ঘোষণা দেওয়া, এবং প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছেন। যেকোনো বিচারে—দেশপ্রেম, সততা, বিনয়, রাজনৈতিক সৌজন্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দূরদর্শিতার মাপকাঠিতে—এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তাঁর সমকক্ষ বা বিকল্প কোনো নেতৃত্ব নেই। এই সত্য আমাদের স্বীকার করতেই হবে।

সংসদকে সকল আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যেসব তরুণ ও সাধারণ মানুষ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে, সেই বীর শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করার একমাত্র উপায় হলো একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা। রাষ্ট্রনায়ক যুদ্ধের আহ্বান জানাতে পারেন, কিন্তু সেই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রশাসনের সর্বস্তরে জমা হয়ে থাকা দুর্নীতির পাহাড় এক দিনে হয়তো সরানো সম্ভব নয়, কিন্তু যদি শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছা ও সাহসিকতা থাকে, তবে কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নেতৃত্ব ও নীতিগত স্পষ্টতার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখিয়েছেন। এখন প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের ঐকমত্য ও সক্রিয় সহযোগিতা। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে বুকে ধারণ করে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে পারলে বাংলাদেশ একটি স্বনির্ভর, আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে