নবপ্রকাশ ডেস্ক:
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৯ হাজার ৪১৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছয়জন মারা গেছেন ঝালকাঠিতে, পিরোজপুরে তিনজন এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বরগুনার চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে বর্তমানে ১৬৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানান, নারকেলের খোসা, কাটা গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবন ও টব এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠেছে। তবে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন, অ্যান্টিজেন কিট ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি, যেখানে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৬ জন। জেলার ৯টি এলাকাকে ডেঙ্গুর জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির। এছাড়া পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৩৬২ জন, বরগুনায় ১ হাজার ২৭৭ জন, বরিশালে ৯১১ জন এবং ভোলায় সবচেয়ে কম ৫৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮০২ জন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জানান, নগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রতিদিন ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, অতীতে বরগুনায় সংক্রমণ বেশি থাকলেও এবার পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রম ও জনসচেতনতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
