ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » জোড়া খুনের রহস্যে দম্পতির দীর্ঘ অনুসন্ধান

জোড়া খুনের রহস্যে দম্পতির দীর্ঘ অনুসন্ধান

বিনোদন ডেস্ক

২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের টোপেকায় কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহের কেন্দ্রে আসেন সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলার। গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে একাধিক বিচার ও যাবজ্জীবন সাজা—সবই হয়েছিল। তবু দুই দশক পরও প্রশ্ন থেকে যায়, সত্যিই কি এই জোড়া খুনের রহস্যের সমাধান হয়েছিল?

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বছরের পর বছর নথি ঘেঁটেছেন ইলিন ও কিন উমবের দম্পতি। তাঁদের অনুসন্ধানের গল্পই উঠে এসেছে এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’তে।

২০১৭ সালে সাংবাদিক জো সেক্সটনের কাছে একটি ই-মেইল পাঠান ইলিন উমবের। সেখানে ২০০২ সালের ওই জোড়া খুন নিয়ে অনুসন্ধানে আগ্রহী কি না, তা জানতে চান তিনি। শুরুতে সেক্সটনের এ মামলায় কোনো আগ্রহ ছিল না। তাঁর কাছে ঘটনাটি অনেকটাই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি মামলা মনে হয়েছিল।

কিন্তু ইলিন হাল ছাড়েননি। কখনো এক সপ্তাহে ১০টি, আবার কখনো একদিনেই ২৫টি ই-মেইল পাঠাতেন তিনি। প্রতিটি বার্তায় থাকত আদালতের নথি, ব্যালিস্টিকস রিপোর্ট, সম্পত্তির কাগজসহ মামলার নানা তথ্য। এভাবে কয়েক শ ই-মেইল একসময় বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক হাজারে।

এর পেছনে ব্যক্তিগত আগ্রহের পাশাপাশি আইনি কারণও ছিল। ইলিনের স্বামী কিন উমবের একজন আইনজীবী। নিজেদের অর্থ ব্যয় করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চ্যান্ডলারের মামলাটি খতিয়ে দেখছিলেন এবং তাঁর পক্ষে আইনি লড়াইয়েও যুক্ত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৭১৪তম ই-মেইলে বড় খবর দেন ইলিন। কানসাস সুপ্রিম কোর্ট চ্যান্ডলারের দুই খুনের সাজা বাতিল করেছে। এবার আর বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেননি সেক্সটন। তিনি ইলিনকে জানান, সম্ভবত তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা উচিত।

সেই সাক্ষাৎ থেকেই শুরু হয় নতুন অনুসন্ধানের অধ্যায়। গত ছয় বছরের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘আ কিলার স্টোরি’। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রচার শুরু হওয়া এই সিরিজের পরিচালক ম্যাথিউ গ্যালকিন।

খুনের ঘটনায় শুরু থেকেই চ্যান্ডলারকে সন্দেহ

২০০২ সালের ৭ জুলাই রাতে ক্যাসিনোয় গিয়েছিলেন হার্কনেস ও সিসকো। রাত দেড়টা পর্যন্ত ক্যামেরায় তাঁদের সেখানে দেখা যায়। পরে তাঁরা হার্কনেসের টোপেকার টাউনহাউসে ফিরে যান। রাত তিনটার আগেই সেখানে পৌঁছেছিলেন তাঁরা।

পরে হার্কনেসের বাবা বাড়িতে গিয়ে দুজনের মরদেহ দেখতে পান। দুজনকেই একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল।

তদন্তে শুরুতেই ডাকাতির সম্ভাবনা নাকচ করে দেয় পুলিশ। ঘরে টাকা পড়ে ছিল, সিসকোর মানিব্যাগে অর্থ ছিল এবং হার্কনেসের গয়নাও নেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির খোসায় কোনো আঙুলের ছাপ মেলেনি। হত্যার অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি।

তবে গুলির খোসা থেকে একটি সূত্র পাওয়া যায়। সেগুলো ছিল ইসরায়েলি তৈরি সাবসনিক বুলেট, যা উজি ধরনের অস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। তদন্তকারীদের একজন রে লানডিন মনে করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অতিরিক্ত সহিংস এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত আবেগ কাজ করতে পারে।

সিসকোর পরিবারের সন্দেহও শুরু থেকেই ছিল তাঁর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলারের দিকে। তাঁদের ১৫ বছরের দাম্পত্যের সমাপ্তি হয়েছিল তিক্তভাবে। বিচ্ছেদের পর সিসকো বাড়ি ও সন্তানদের হেফাজত পান। চ্যান্ডলারের মদ্যপানের সমস্যার কথাও সামনে আসে।

পরবর্তী সময়ে চ্যান্ডলার হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, মদ্যপান ছেড়ে দেন এবং টোপেকা থেকে প্রায় ৫৪০ মাইল দূরে ডেনভারে চলে যান।

হত্যার কয়েক দিন পর গোয়েন্দা রিচার্ড ভোল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চ্যান্ডলার ৬ জুলাইয়ের নিজের কর্মকাণ্ডের কথা জানান এবং অটোজোনে যাওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু তদন্তকারীরা পরে এমন একটি রসিদ পান, যাতে দেখা যায় তিনি দুটি পাঁচ গ্যালনের গ্যাস ক্যান কিনেছিলেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা হয়, ওই জ্বালানি ব্যবহার করে ডেনভার থেকে টোপেকায় গিয়ে আবার ফিরে আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল।

তবে প্রায় এক দশক পর্যন্ত এটি ছিল শুধুই একটি তদন্ত-তত্ত্ব। তৎকালীন জেলা অ্যাটর্নি রবার্ট হেখট চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি। কারণ, হত্যার সময় তিনি টোপেকায় ছিলেন—এমন সরাসরি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০১১ সালে ওকলাহোমা থেকে চ্যান্ডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর মার্চে টোপেকার জুরি মাত্র ৮৩ মিনিটের আলোচনার পর তাঁকে দুটি প্রথম ডিগ্রির খুনে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১০০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়নি।

বিচারে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি

তবে পরবর্তী সময়ে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারের সময় প্রসিকিউটর জ্যাকুই স্প্র্যাডলিং দাবি করেছিলেন, সিসকো চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে ‘প্রটেকশন ফ্রম অ্যাবিউজ’ আদেশ নিয়েছিলেন। গোয়েন্দা ভোলও আদালতে একই ধরনের তথ্য দেন।

কিন্তু কিন উমবের আদালতের নথি খুঁজে এমন কোনো আদেশের অস্তিত্ব পাননি। বিষয়টি চ্যান্ডলারের আপিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের এপ্রিলে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দুই সাজা বাতিল করে। তবে আদালত একই সঙ্গে জানায়, পারিপার্শ্বিক প্রমাণ নতুন করে বিচারের জন্য যথেষ্ট। ফলে চ্যান্ডলার সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি মুক্তি পাননি; বরং নতুন বিচারের সুযোগ তৈরি হয়।

এদিকে প্রসিকিউটর স্প্র্যাডলিংয়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অভিযোগও করেন কিন উমবের। ২০২২ সালের মে মাসে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আইন পেশা থেকে বহিষ্কার করে।

ইলিন ও কিন উমবের দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং সাংবাদিক জো সেক্সটনের যুক্ত হওয়ার গল্প তাই শুধু একটি পুরোনো হত্যামামলার পুনরাবিষ্কার নয়। এটি এমন এক অনুসন্ধানের কাহিনি, যেখানে বছরের পর বছর জমে থাকা নথি, প্রশ্ন ও সন্দেহ একটি বহুল আলোচিত মামলার পরিচিত গল্পকেই নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে