নবপ্রকাশ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমের ক্যাম্পাসে আগমনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টার মধ্যে নতুন উপাচার্যকে উপাচার্য ভবন ত্যাগ করার কড়া আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার হুলিয়া দিয়েছেন তাঁরা।
তবে সোমবার দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, তীব্র আন্দোলনের মুখেও নতুন উপাচার্য শেখ শরিফুল আলম উপাচার্য ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছেন। ভবন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সিভিল পোশাকে পুলিশের উপস্থিতি এবং উপাচার্যের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাদের প্রহরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরবর্তীতে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
উপাচার্যের এই প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। সকালে উপাচার্যের জন্য ফুল ও খাবার নিয়ে আসা দু-তিনজন সাবেক শিক্ষার্থীকে বাধা দিলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময়ের সঙ্গে ছাত্রদল সমর্থক শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
পরিস্থিতি নিয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম জানান, “আমি সকালে ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্বভার নিয়েছি। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের শিক্ষকেরা এলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব।” সকালে কোনো দাপ্তরিক কাজ করেছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, তেমন কোনো প্রশাসনিক কাজ করা হয়নি।”
ক্যাম্পাসে প্রবেশ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্ময় বলেন, “সরকার যেহেতু স্যারকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাই তাঁর দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা সহায়তা করেছি। কাজ করার সুযোগ না দিয়ে তাঁর ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়।”
অন্যদিকে আন্দোলনের মুখপাত্র ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা শুরু থেকেই এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেছি। ভোরে বা চুপিচুপি ব্যাকডোর দিয়ে প্রবেশ করলেই আমরা তাঁকে মেনে নেব—এটা ভাবা ভুল। আমাদের লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি এবং শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন চলছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
