নবপ্রকাশ ডেস্ক:
‘একজন শিক্ষক আমাকে নাম দিয়েছেন পরীক্ষা মিলন’ বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তাকে নিয়ে ট্রল ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কিছু কিছু লোক সুন্দর সুন্দর পোস্ট দেন। একজন শিক্ষক, যার নামের আগে ডক্টর আছে, তিনি আমাকে নাম দিয়েছেন পরীক্ষা মিলন। মন্ত্রী মিলন না, আমার নাম হচ্ছে পরীক্ষা মিলন। ডক্টর সাহেব, আপনি যে পিএইচডি করেছেন, বিনা পরীক্ষায় করেছেন?’
তিনি বলেন, ‘আজকের উন্নত বিশ্বে যে নতুন পদ্ধতিতে লেখাপড়া করা হয়, প্রজেক্ট সিস্টেমে করা হয়, পরীক্ষা ছাড়া কি হয়? কী বলতে চাচ্ছেন? শিক্ষার মান উন্নয়ন করতেই হবে, কিন্তু পরীক্ষা ব্যতিরেকে? পরীক্ষা ছাড়া কি সার্টিফিকেট হয়?’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আজকাল দেখতে পাচ্ছি, অনেক গুণীজন এমন সব বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। মাঝে মাঝে ভাবতে ইচ্ছে হয়, বাংলাদেশে এত বেশি পিএইচডি হয়েছে, সেই পিএইচডিগুলো আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’
এ সময় তিনি একটি গল্পের মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, এক ব্যক্তি একটি সাইনবোর্ড দেখে জানতে পারেন যে সেখানে ১০ ডলারের বিনিময়ে পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া যায়। তিনি টাকা দিয়ে নিজের নামে একটি পিএইচডি সনদ নেন। পরে ভাবলেন, তার ঘোড়ার কারণেই তিনি সেখানে যেতে পেরেছেন, তাই ঘোড়াটিরও একটি পিএইচডি হওয়া উচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাকে জানায়, তারা ঘোড়াকে নয়, গাধাকে পিএইচডি দেয়।
তিনি বলেন, ‘যদি এইভাবে মানুষ তার ব্যক্তি চেতনা ও চিন্তাভাবনাকে বাদ দিয়ে উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উস্কানি দিতে চায়, তাহলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাকে ব্যর্থ করে দেবে।’
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা একটি ন্যারেটিভকে নেগেটিভভাবে নিয়ে নিলো। জাতি যদি এভাবে অর্ধকানা হয়ে যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করছে, তারা কেউই ছাত্র নয়। এভাবে ছাত্রদের মিসগাইড করে আন্দোলন করে অযথা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে লাভ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এসেছি এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়ে। যে যত ট্রল করুক না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা আমাদের বিচ্যুত করতে পারবেন না।’
