ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন ভ্যান্স

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক ও মতবিরোধ ছিল বলে প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সচিব ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শন স্পাইসারের সঞ্চালিত একটি বিশেষ টকশো অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার প্রদানকালে তিনি এসব বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স সরাসরি মন্তব্য করে বলেন, “কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রশাসনের প্রধান বা প্রেসিডেন্টের সাথে আপনার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ঘটতেই পারে। আর আমার মনে হয়, ইরান যুদ্ধের ইস্যুতে তাঁর (ট্রাম্পের) সঙ্গে আমারও কিছুটা মতবিরোধ বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।”

টাকার কার্লসনের ক্ষোভ ও ভ্যান্সের অবস্থান

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ডানপন্থি রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি অনুষ্ঠানে আলোচনায় উঠে আসে। কার্লসন এই যুদ্ধ ও মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে কতটা ক্ষুব্ধ, সে প্রসঙ্গে ভ্যান্স স্বীকার করে বলেন, “কার্লসন এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব পোষণ করছেন এবং খুব, খুব ক্ষুব্ধ।”

ভ্যান্স আরও যোগ করেন, “এ বিষয়ে কার্লসনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তিনি কী ভাবছেন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান কোথায়, তা আমি স্পষ্টভাবেই অনুধাবন করতে পারি।”

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট ডানপন্থি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে গণ্য হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে বর্তমান সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই তিনি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির প্রকাশ্য ও কড়া সমালোচকে পরিণত হন।

এক বিষয়ের জন্য ট্রাম্পের অর্জন না ভুলার আহ্বান

কার্লসনের তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধিতার কথা তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি কার্লসনকে ট্রাম্পের অন্যান্য ঐতিহাসিক সাফল্যগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ভ্যান্স নিজের বক্তব্যে বলেন, “আমি টাকারকে যা বলেছিলাম তা হলো—একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুতে দ্বিমত বা ভিন্নমত পোষণ করার অর্থ এই নয় যে, আপনি একটি প্রশাসনের সার্বিক অর্জনগুলোকে বাতিল করে দেবেন।”

নিজের যুক্তি জোরালো করতে ভ্যান্স প্রশ্ন তোলেন, “দক্ষিণ সীমান্ত কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া এবং আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণভিত্তিক অযৌক্তিক বৈষম্যমূলক নীতির অবসান ঘটানো—এগুলো কি এমন সব সাফল্য নয়, যার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া উচিত?”

রিপাবলিকান বলয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক

যদিও সাক্ষাতকারে ভ্যান্স ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সাথে ঠিক কোন্ নির্দিষ্ট কৌশলগত পয়েন্টে দ্বিমত ছিলেন তা বিস্তারিত খোলাসা করেননি, তবে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বলয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে যে গভীর দ্বিমত ও বিতর্ক চলছে, ভ্যান্সের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তা প্রকাশ্যে নিয়ে এলো।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে