ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » অভিযানের টের পেয়ে চম্পট মৌসুমি জেলেরা

অভিযানের টের পেয়ে চম্পট মৌসুমি জেলেরা

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে টানা চার দিনের বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত যমুনার তেওতা, পাটুরিয়া ও জাফরগঞ্জ পয়েন্টে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে এই চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।

তবে নদীতে কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকাররত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মৌসুমি জেলের কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্র ও মৎস্যজীবীরা জানান, অভিযানে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেতেই জাল ও ট্রলার ভাসিয়ে রেখে দ্রুত ইঞ্জিনচালিত স্পিডবোট বা ট্রলারযোগে সটকে পড়ছেন তারা। মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড সদস্যরা রোববার সরাসরি নদীতে এই অভিযান চালান।

শিবালয় উপজেলার নয়াকান্দি থেকে পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর পর্যন্ত যমুনা নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার নৌসীমানায় বর্তমানে প্রায় তিন হাজার মৌসুমি জেলে রাতে ও দিনের আলোয় গোপনে মা ইলিশ শিকার করছেন। নদীর তীরবর্তী এলাকার বেশ কিছু অস্থায়ী হাটবাজারে ও দালালদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই মাছ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশি দামে পাচার করা হচ্ছে।

অভিযানের কৌশল ফাঁস হওয়া নিয়ে ফারুক হোসেন নামে এক মৌসুমি জেলে নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, “প্রশাসনের গাড়ি বা ট্রলার অভিযানে নামার আগেই আমরা নিজস্ব ‘সোর্স’-এর মাধ্যমে আগাম খবর পেয়ে যাই। যে কারণে অভিযান চালানো হলেও কাউকে আটক করতে পারে না পুলিশ বা মৎস্য বিভাগ।”

এদিকে আটক হলে পার পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী দালালদের চুক্তি করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এসেছে। আমজাদ হোসেন নামে অপর এক জেলে দাবি করেন, “নদীতে নামার আগে আমাদের আগেই চুক্তি করা আছে। যদি কোনো জেলে আটক হন, তবে দালালদের চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। ওই দালালরা প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সামান্য কিছু অর্থ জরিমানা দেখিয়ে আটক জেলেদের দ্রুত ছাড়িয়ে আনার বন্দোবস্ত করে।”

তবে দালালি বা ঘুষের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। শিবালয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, “অভিযানের খবর পেলেই ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মৌসুমি জেলেরা গভীর নদীতে সটকে পড়েন। তবে দালালদের সুযোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। গত বছর আমি এই উপজেলায় ছিলাম না, তাই পূর্বের ঘটনা জানা নেই। এবার নদী থেকে ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরাসরি জেল-জরিমানা করা হবে। কোনো সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।”

একই বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার ও শিবালয় থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। নদীতে মাছ ধরার দায়ে অভিযুক্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হলে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হবে। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহায়তায় যমুনায় অবৈধ মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে