ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » কৃষকের ধান সরাসরি কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

কৃষকের ধান সরাসরি কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

কৃষকের ঘামের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়াদের প্রভাব পুরোপুরি নির্মূল করে সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় একটি বিশেষ পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করছে সরকার। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য বিভাগ আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “কৃষকেরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা জটিলতা ছাড়া সহজে সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য আমরা পুরো ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড ও সহজতর করছি। ব্যাংক হিসাব খোলা বা জটিল পেপারওয়ার্কের আনুষ্ঠানিকতার কারণে অনেক সময় প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়েন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকাশসহ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের একাউন্টে ধানের টাকা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”

সরকারের দূরদর্শী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দেশের আপামর জনগণের দোড়গোড়ায় সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

খাদ্যশস্য মজুত ও গুণের মান রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার পাশাপাশি খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। দেশীয় বা আমদানিকৃত—যেকোনো উৎস থেকে সংগৃহীত খাদ্যশস্য নির্ধারিত সরকারি মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল গুদামে নেওয়া হবে। খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

বিতরণব্যবস্থায় কালোবাজারি ও অনিয়ম রুখতে খাদ্যশস্যের প্রতিটি বস্তা বা প্যাকেটে নির্ধারিত সরকারি সিল দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এর মাধ্যমে খাদ্যশস্য চুরি বা অনিয়ম হলে দায়ী ব্যক্তিদের সহজে শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে খাদ্য পরীক্ষার আধুনিক ল্যাব-যানবাহন দেশের ৬৪টি জেলাতেই সরবরাহের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউজের মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে