ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ১৬ জুন: সংবাদপত্রের কালো দিবস

১৬ জুন: সংবাদপত্রের কালো দিবস

জহিরুল ইসলাম রাতুল: বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে ১৬ জুন একটি বহুল আলোচিত, বেদনাবিধুর ও বিতর্কিত দিন। দেশের সাংবাদিক সমাজ, সংবাদকর্মী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দিনটিকে “সংবাদপত্রের কালো দিবস” হিসেবে পালন করে থাকে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) সরকারের সিদ্ধান্তে মাত্র চারটি সংবাদপত্র ছাড়া দেশের বাকি সব দৈনিক পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে হাজার হাজার সাংবাদিক, মুদ্রাকর্মী, হকার ও সংবাদপত্রসংশ্লিষ্ট কর্মচারী একদিনেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকটের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সে সময় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল চালু করা হয়। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ জুন সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয় এবং শুধুমাত্র চারটি পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়। এসব পত্রিকা ছিল সরকার নিয়ন্ত্রিত ও রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।

সাংবাদিক নেতাদের মতে, ওই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমের বহুমাত্রিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। বহু প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার সংবাদকর্মী পরিবারসহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যান। অনেক সাংবাদিক দীর্ঘদিন বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগেছেন বলেও বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদপত্র শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চর্চা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই ১৬ জুনের ঘটনাকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও বাকস্বাধীনতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা বলেন, একটি স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না।

প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, প্রেসক্লাব ও রাজনৈতিক দল আলোচনা সভা, স্মরণসভা, মানববন্ধন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কোনো পরিস্থিতিতেই যেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত না হয় এবং সাংবাদিকরা যেন নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে গণমাধ্যমের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এবারও ১৬ জুন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। আলোচনা সভাগুলোতে বক্তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে