ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » মোস্তফা মোহসীন মন্টু ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের সংগ্রামী নেতা : ড. কামাল হোসেন

মোস্তফা মোহসীন মন্টু ছিলেন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের সংগ্রামী নেতা : ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণফোরামের সাবেক সভাপতি মরহুম মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও গণমানুষের অধিকারের সংগ্রামী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “মোস্তফা মোহসীন মন্টু ষাটের দশকে পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা জেলা গেরিলা বাহিনীর প্রধান হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”

তিনি বলেন, “৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সফল গণঅভ্যুত্থানে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।”

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, “সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও কালোটাকা নির্ভর রুগ্ন রাজনীতির বিপরীতে একটি সুস্থধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৩ সালে গণফোরাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মোস্তফা মোহসীন মন্টু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সর্বশেষ গণফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আমৃত্যু আমার পাশে ছিলেন।”

তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গণফোরামের প্রতিনিধি দলে অংশ নিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।”

মোস্তফা মোহসীন মন্টুর রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ড. কামাল হোসেন বলেন, “তিনি সবসময় মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন।”

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্রহীনতা, গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি, একদলীয় নির্বাচন ও সর্বত্র দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।”

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা হলে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

সভায় ড. কামাল হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, সরকার সেই বিষয়ে সজাগ থাকবে এবং একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।”

স্মরণসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণফোরামের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে