ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » স্যামসনের খোঁচা: সমালোচনা এড়াতে ‘ওয়াইফাই বন্ধ’!

স্যামসনের খোঁচা: সমালোচনা এড়াতে ‘ওয়াইফাই বন্ধ’!

স্পোর্টস ডেস্ক :

ক্রিকেটারের জন্য মাঠের বাইরের আলোচনা-সমালোচনা সামলানোই অনেক সময় সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই ‘বাইরের শব্দ’ যদি আসে পারফরম্যান্স ঘিরে, চাপটা আরও বাড়ে।

ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সাঞ্জু স্যামসন এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বেশ পরিচিত। চলতি বছরই তাকে পেরোতে হয়েছে চরম হতাশা থেকে দারুণ সাফল্যের নানা বাঁক।

সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়েন স্যামসন। এরপর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। টানা তিন ম্যাচে ফিফটি করে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের সেই নায়ককেই কিছুদিন পর আবার জায়গা হারানোর শঙ্কায় পড়তে হয়।

এর মধ্যে আলোচনায় উঠে আসেন তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে কিছু বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন স্যামসন। পরে আফগানিস্তান সিরিজে ফিরলেও পরিস্থিতি সহজ হয়নি।

বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কথাও উঠতে থাকে, সূর্যবংশীকে দলে সুযোগ না দেওয়ার জন্যই নাকি স্যামসন জায়গা ধরে রেখেছেন।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১০ রান করে আউট হওয়ার পর সমালোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এমনকি দ্বিতীয় ম্যাচের আগে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছিলেন, সূর্যবংশী খেলছেন না বলে তারা খেলাই দেখবেন না।

বাইরের এত সব কথার মধ্যে স্যামসন কী করেন? তার উত্তরটা বেশ মজার। হেসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আমি ওয়াই-ফাই বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করি।’

তার কথায় হাসির রোল ওঠে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। তবে সমর্থকেরা নিজেদের মতামত জানাবেন, এটাকে স্বাভাবিকই মনে করেন স্যামসন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা তাকে এসব সামলাতে শিখিয়েছে।

স্যামসন আরও যোগ করেন, ‘মাঝেমধ্যে ওয়াই-ফাই আবার চালুও হয়ে যায়, তখন মন্তব্যগুলো দেখি।’

সমর্থকেরা কী বলবেন, সেটি তাদের ব্যাপার, স্যামসনের কাছে বিষয়টি এতটাই সহজ।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা খুবই স্বাভাবিক। এটা তাদের পছন্দ, তাদের মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তারা কী ধরনের শব্দ ব্যবহার করবেন। ইতিবাচকভাবে কথা বলতে পারেন, আবার নেতিবাচকভাবেও বলতে পারেন। আমি মনে করি, এসব কীভাবে সামলাতে হয়, সেটা বোঝার মতো যথেষ্ট পরিণত ও অভিজ্ঞ আমি।’

বাইরের শব্দ থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্স। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সিরিজ জিততে স্যামসনের ব্যাটে দেখা যায় এমনই একটি ইনিংস।

আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের পর এই সংস্করণে এটিই তার প্রথম ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ২২ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন সঞ্জু।

তার ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে ভারত। এই ইনিংস হয়তো কিছুদিনের জন্য সমালোচনার শব্দটা কমিয়ে দেবে। তবে স্যামসন স্বীকার করেছেন, বাইরের এসব কথাবার্তা তাকে কখনও কখনও প্রভাবিত করে।

“আমারও খারাপ লাগে। আমি তো কোনো মেশিন বা রোবট নই যে বলব, ‘এসবে আমার কিছু যায় আসে না।’ অবশ্যই যায় আসে। কিছুটা প্রভাবিতও হই। তবে তখন নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করি- আমি কে, আমাকে কী করতে হবে।”

“নিশ্চিতভাবেই ভারতের হয়ে খেললে বাইরের সমালোচনা একজন ক্রিকেটারকে প্রভাবিত করে। তবে আপনার মানসিকতা কী, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন ও কী মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামবেন- এসব বিষয়ে আপনাকে পরিষ্কার থাকতে হবে।”

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে