ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মধ্যরাতে রাস্তায় নারী পুলিশ কমিশনার,৩ঘন্টায় পেলেন ৪০ কুপ্রস্তাব

মধ্যরাতে রাস্তায় নারী পুলিশ কমিশনার,৩ঘন্টায় পেলেন ৪০ কুপ্রস্তাব

নব প্রকাশ ডেস্ক:
রাতে নারীদের চলাফেরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়ার জন্য স্বয়ং পুলিশ কমিশনার মধ্যরাতে নামলেন রাজপথে। দেখলেন কি ধরনের মানুষ মধ্যরাতে চলাফেরা করে এবং নারীদের প্রতি তাদের আচরণ কেমন। বলা বাহুল্য তিন ঘন্টায় পুলিশ কমিশনার ৪০টি প্রস্তাব পেয়েছেন। যাদের কাছ থেকে এই প্রস্তাব পেয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ছিল মধ্যপ কিংবা কাঁদায় আসক্ত। এই নারী পুলিশ কমিশনারের নাম সুমতি, তিনি ভারতের হায়দারাবাদের মালকাজগিরি প্রশাসনিক অঞ্চলের পুলিশ কমিশনার।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির অনুসন্ধানই রিপোর্টে জানা যায়, গভীর রাতে সাধারণ নারীর ছদ্মবেশে সুমতী একা দাঁড়িয়ে ছিলেন শহরের একটি বাসস্টপে। পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই মধ্যরাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করেন। উদ্দেশ্য ছিল, রাতের শহরে নারীরা বাস্তবে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, তা সরাসরি বোঝা।
তবে পরবর্তী তিন ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তা উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন অনেকে। ওই তিন ঘন্টা সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুরুষ সুমতীর কাছে এসে কথা বলার চেষ্টা করেন। তাদের অনেকেই মদ্যপ ছিলেন ও কয়েকজনকে গাঁজার প্রভাবে রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হয়।

যারা তার কাছে এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীও ছিলেন। তবে তারা কেউই বুঝতে পারেননি যে, যাকে তারা সাধারণ নারী ভেবে কথা বলছেন, তিনি আসলে শহরের একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধু অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা না করে পুলিশ স্টেশনে ডেকে কাউন্সেলিং করানো হয় ও জনসমক্ষে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এটি অবশ্য সুমতীর জন্য নতুন কিছু নয়। প্রায় ২৫ বছর আগে কর্মজীবনের শুরুতে কাজিপেট রেলস্টেশনের কাছে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একই ধরনের একটি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তখনও নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরাসরি বোঝার জন্য তিনি ছদ্মবেশে মাঠে নেমেছিলেন।

তেলেঙ্গানা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা সুমতী এর আগে স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসআইবি) প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেবুজির নেতৃত্বাধীন কয়েকজন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পরে চলতি বছরের ১ মে মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুমতী।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে