ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » জ্বালানি তেলের দাম কমলো ৪ শতাংশ

জ্বালানি তেলের দাম কমলো ৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর সপ্তাহান্তে সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় সোমবার বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৩টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এটি সাময়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৯০ ডলারের সমর্থনস্তরের নিচেও নেমে যায়।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ০২ ডলার বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়।

টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার পর দুই ধরনের তেলই প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। সংঘাত পরে লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ায় বাব এল-মান্দেব প্রণালী হয়ে এশিয়ায় বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িকভাবে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকরা এক প্রতিবেদনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকায় উত্তেজনা প্রশমনের প্রথম বাস্তব ইঙ্গিত মিলেছে। এর ফলে দিনের শুরুতেই তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।”

তারা আরও বলেন, “আজকের দরপতনই প্রমাণ করে, ইতিবাচক কোনো খবরের জন্য বাজার কতটা অপেক্ষায় ছিল।”

তবে হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ ওই প্রণালী অতিক্রম করেছে।

এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাড়লেও তা ধীরগতিতে এবং আংশিকভাবে হতে পারে। অনেক শিপিং কোম্পানি এখনো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তারা ঝুঁকি নিতে চাইবে না।”
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও জাহাজ চলাচল কমে গেছে। যদিও একটি তৃতীয় চীনা সুপারট্যাংকার ওই পথ ব্যবহার করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেছে।

তবুও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নৌপথের ঝুঁকি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে বাজারে আবারও দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

ইউওবি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং একই সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জাহাজ ও তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও নতুন চাপ তৈরি হবে।”

ইউক্রেনও জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে তারা রাশিয়ার একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে