ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » চকবাজারে আগুন: ২১ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ধোঁয়া, ভাঙছে কাচ

চকবাজারে আগুন: ২১ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ধোঁয়া, ভাঙছে কাচ

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

পুরান ঢাকার চকবাজারের ব্যস্ততম এলাকা মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২১ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও আগুন এখনো পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল পর্যন্ত ভবনটি থেকে চারদিকে পোড়া গন্ধ ও কুন্ডলী পাকানো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনটির ভেতরের প্লাস্টিক ও দাহ্য পণ্যের স্তূপ থেকে এখনো তাপ নির্গত হচ্ছে।

পুরোপুরি নির্বাপণ কাজের সুবিধার্থে ও সুরক্ষার স্বার্থে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস ভবনটির সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পথচারী চলাচল সীমিত রেখেছে। ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ির সহায়তায় নিরবচ্ছিন্ন পানি স্প্রে করার কাজ চলছে।

মঙ্গলবার সকালে অগ্নিকাণ্ডস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। তবে ষষ্ঠ তলার গোডাউনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ছাতা, কসমেটিকস, আতরের বোতলসহ বাণিজ্যিক মালামাল ঠাসা থাকায় সেগুলো সরিয়ে ভেতর থেকে ধোঁয়া ও সুপ্ত তাপ বের না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত নির্বাপণ সম্ভব হচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। সংবাদের পরপরই সিদ্দিকবাজার, লালবাগ ও পলাশী ফায়ার স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। পরবর্তীতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ফায়ারফাইটার পালাক্রমে চরম ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।

অভিযানের প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে কাজী নজমুজ্জামান বলেন—

১. সরু রাস্তা ও যানজট: চকবাজারের সরু রাস্তা এবং বিকালের তীব্র যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের ভারী গাড়িগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের মুখে পড়ে।

২. তালা ও শাটারের বাধা: ষষ্ঠ তলার গোডাউনগুলোর প্রতিটিতে ৪-৫টি করে ভারী তালা ও ভেতরে ক্রসফায়ার গেট লক করা ছিল। তীব্র ধোঁয়া ও উত্তাপের মধ্যে হাইড্রোলিক কাটার দিয়ে এসব তালা কেটে ভেতরে ঢুকতে হয়েছে।

৩. ধোঁয়া নির্গমনে বাধা: ভবনটিতে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়া ও উত্তাপ জমা হয়ে তীব্র রূপ নেয়। এর ফলে ফায়ার সার্ভিসের চারজন সদস্য অসুস্থ ও আহত হন।

৪. পানি সংকট: দ্রুত সময়ে আশপাশের পানির রিজার্ভ খালি হয়ে গেলে পাম্প ও রিজার্ভার পরিবর্তন করে বিকল্প উৎস থেকে পানি এনে কাজ চালাতে হয়েছে।

কাজী নজমুজ্জামান আরও জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভবনটির ষষ্ঠ তলার ৭-৮টি গোডাউন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সপ্তম তলা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কৌশলী ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে সংযুক্ত থাকা অন্য তিন-চারটি বড় মার্কেট ও আশেপাশের এলাকাকে ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও আগুনের মূল উৎস সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। গোডাউনের ড্যামেজ মালামাল পুরোপুরি পরিষ্কার করা না পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে