ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে যোগ হলো ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে নির্মিত দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পাহাড়ের প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ গত ৭ বছর ধরে নিয়মিত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। কেন্দ্রটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে মোট ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যার বাণিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পের এই ব্যাপক সাফল্য ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়কে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন দুটি প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল প্রায় ২২ একর জমি। দীর্ঘদিনের অনাবাদি এই জমির ১৯ একর জুড়ে প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে ৭.৪ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের প্রথম জাতীয় গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গড়ে তোলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বর্তমানে সেই পরিত্যক্ত জমিতে সারি সারি সোলার প্যানেল বসিয়ে পরিবেশবান্ধব ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফলের কথা জানিয়ে বলেন, “এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ। প্রচলিত অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় এর পরিচালনা জনবল ও খরচ অনেক কম। সোলার প্যানেল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ছাড়া এখানে আর তেমন কোনো অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই। এমনকি মেঘলা বা খারাপ আবহাওয়াতেও এর বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকে না। পার্বত্য অঞ্চলের পরিত্যক্ত পাহাড়ী জমিতে এই জাতীয় প্রকল্পের প্রসার ঘটানো গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।”

উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্প সম্পর্কে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান কেন্দ্রটির বিপুল সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন পরিধি আরও বাড়াতে বহুমুখী কাজ চলছে। বিদ্যমান সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণ এবং পাশে আরও ৭.৬ মেগাওয়াটের একটি সম্পূর্ণ নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় ব্রিকফিল্ড এলাকার ২৩ একর জমিতে নতুন ৭.৬ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সকল প্রশাসনিক ও দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় শিগগিরই অতিরিক্ত সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, সৌর বিদ্যুতের প্রধান সুবিধা হলো এতে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার মতো দামি বা আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে।

দেশের প্রায় এক-দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত তিন পার্বত্য জেলার বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত পাহাড়ি জমিকে পরিকল্পিতভাবে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করা সম্ভব। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার এই অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ছাদভিত্তিক সোলার, কৃষিভিত্তিক সোলার ও বিশাল সোলার পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে