ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » এনবিআর কর্মকর্তার দুর্নীতি: শেষ কোথায়?

এনবিআর কর্মকর্তার দুর্নীতি: শেষ কোথায়?

বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের কথিত অবৈধ সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, এসব সম্পদ দ্রুত বিক্রি করে বিদেশে অর্থ পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইট টিজি-৩২২ যোগে শহিদুল ইসলাম সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও তাকে ব্যাংককে, আবার কোথাও মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সরকারিভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে রাজধানীর ধানমন্ডির জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে শহিদুল ইসলামের নামে দুটি মূল্যবান প্লট থাকার দাবি করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পটির ২ নম্বর সেক্টরে পাঁচ কাঠার একটি আবাসিক প্লট এবং ১৬ নম্বর সেক্টরে সাড়ে চার কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে।
এছাড়া মেরুল বাড্ডা সংলগ্ন জহুরুল ইসলাম সিটি (আফতাবনগর) এলাকায় দুটি প্লট এবং রামপুরার বনশ্রী আবাসিক এলাকায় একটি বহুতল ভবনসহ আরও তিনটি প্লটের তথ্য অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
একজন ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানকারীরা আরও দাবি করেছেন, রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় শহিদুল ইসলামের নামে অথবা তার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামে সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লকের ১৬ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘শেল কবিতা’ নামে ২০ ফ্ল্যাটবিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনের সঙ্গে শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ব্লকে একাধিক প্লট, বাণিজ্যিক ফ্লোর ও ফ্ল্যাটের তথ্যও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, বসুন্ধরার জি-ব্লকে আরও ছয়টি প্লট, আই-ব্লকের বাণিজ্যিক ফ্লোর, এন-ব্লকের একটি প্লট এবং জে-ব্লকের প্রায় ২০ কাঠার একাধিক বাণিজ্যিক প্লটের তথ্যও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পসংলগ্ন আমেরিকান সিটিতে শহিদুল ইসলামের নামে ১০৪ কাঠা জমির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পূর্বাচল, ডুমনি, পিতলগঞ্জ, গাজীপুর, কালীগঞ্জ, দিঘলিয়া ও বাড়িয়াছনিসহ বিভিন্ন এলাকায় শত বিঘা জমির তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব জমির মালিকানা বা প্রকৃত নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাভারে বাংলোবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্লট
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামে একটি বাংলোবাড়ি, খামার ও গ্যারেজসহ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে। এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিলেও এ বিষয়ে কোনো সরকারি মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দেশে থাকা সম্পদ দ্রুত বিক্রির জন্য একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলামের দুই ভাই ও কয়েকজন শ্যালকের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনামা) তৈরি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সম্পদ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট দলিল বা নিবন্ধনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

কিছু সূত্রের দাবি, সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়েও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা তদন্তকারী সংস্থা এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

শহিদুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। কোথাও তাকে ব্যাংককে, আবার কোথাও কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনো দেশে চলে যেতে পারেন বলেও কিছু সূত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য সরকারিভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগে উল্লেখিত সম্পদের বিষয়ে যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় এবং আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, অর্থপাচার, সম্পদ বিক্রি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলো জনমনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে আইনের বিধান অনুযায়ী সম্পদ জব্দ, অর্থপাচারের উৎস অনুসন্ধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনগত অধিকার ও সুনামও সমানভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করছে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

তবে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ কী গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

 

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে