জীবনযাপন ডেস্ক
উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে খুবই পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাত্রার অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের পানীয় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ।
বিটের রস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় বিটের রস পান করলে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমার তথ্য পাওয়া গেছে।
লবণ ছাড়া টমেটোর জুসও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। নিয়মিত আনসল্টেড টমেটো জুস গ্রহণ রক্তচাপের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ডালিমের রস, চেরি ও ক্র্যানবেরির জুসও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব পানীয় বেছে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত চিনি বা লবণযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা জরুরি।
ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টিও পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় নিয়মিত চা পান করলে রক্তচাপ কমাতে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে চায়ে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করা ঠিক নয়।
অন্যদিকে অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস পানও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।
কফি, এনার্জি ড্রিংকস, ব্ল্যাক টি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ও পরিমিত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত ক্যাফেইন সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
শুধু পানীয় পরিবর্তন করলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে না। খাবারে লবণ কমানো, বেশি শাকসবজি ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ধূমপান বন্ধ করা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর মতো অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত রক্তচাপ মাপার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও জীবনযাপন মেনে চলা জরুরি।
