ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ইরান-মার্কিন যুদ্ধ চীনের জন্য ‘জীবন্ত পাঠশালা’

ইরান-মার্কিন যুদ্ধ চীনের জন্য ‘জীবন্ত পাঠশালা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাত তৃতীয় মাসে গড়ানোর পর এটিকে ঘিরে নতুন করে কৌশলগত বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরের এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই বদলে দিচ্ছে না, বরং চীনের মতো উদীয়মান সামরিক শক্তির জন্যও হয়ে উঠেছে একটি “জীবন্ত পাঠশালা”।

 

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের মাধ্যমে বেইজিং খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের বাস্তব কার্যকারিতা। একইসঙ্গে এটি চীনকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—যেকোনো যুদ্ধে প্রতিপক্ষের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রতিরোধ কৌশলকে অবমূল্যায়ন করা বিপজ্জনক হতে পারে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীন, তাইওয়ান ও অন্যান্য অঞ্চলের সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চীন বর্তমানে নিজেদের সামরিক শক্তিকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করছে। তাদের মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সীমিত এবং সম্ভাব্য সংঘাতের পরিণতি নিয়ে বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও অনেকাংশে সংকীর্ণ।

 

 

 

চীনা বিমান বাহিনীর সাবেক কর্নেল Fu Qianshao বলেন, “এখন পর্যন্ত চলা যুদ্ধ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পিএলএ কখনোই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অবহেলা করতে পারে না।”

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ইরান যেভাবে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও THAAD (টার্মিনাল হাই-অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, তা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

 

ফু ছিয়ানশাও আরও বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধে আমরা যেন প্রতিপক্ষের আক্রমণের মুখেও টিকে থাকতে পারি, সেজন্য আমাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তা কাটিয়ে উঠতে হবে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিএলএ ব্যাপক হারে তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। চীন ইতোমধ্যে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল, উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেগুলো প্রচলিত ইন্টারসেপ্টর ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।

 

ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Royal United Services Institute (RUSI)-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনা বিমান বাহিনী দ্রুতগতিতে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান যুক্ত করছে। দেশটি প্রায় এক হাজার জে-২০ স্টেলথ ফাইটার মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সমতুল্য।

 

এছাড়া চীন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ ও বি-২১-এর মতো দীর্ঘপাল্লার স্টেলথ বোমারু বিমান তৈরির প্রকল্পও এগিয়ে নিচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই উদ্যোগগুলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-মার্কিন সংঘাত চীনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে।

 

তাদের মতে, এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে—শুধু প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই যথেষ্ট নয়; প্রতিপক্ষের কৌশল, অভিযোজন ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রতিটি ধাপ বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও আধুনিক ও কার্যকর করার চেষ্টা করছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে