নবপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে ক্রমশ শক্তি সঞ্চার করে চলা আবহাওয়ার ধ্বংসাত্মক রূপ ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ২০২৬ সাল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘কোপার্নিকাস climate change service’-এর পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লো বুয়োনতেম্পো বলেন, অতীতের এল নিনো প্রবাহের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রার সব পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। শুধু ২০২৬ সালই নয়, এই ধারা অব্যাহত থাকলে এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালেও বিশ্বের তাপমাত্রা নতুন করে চরম সীমানায় পৌঁছাতে পারে।
এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ পর্যায়, যার প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা সাময়িকভাবে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এই স্বাভাবিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় ভয়াবহ চরমভাবাপন্ন পরিবর্তন নেমে আসে—একদিকে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে দেখা দেয় ভয়াবহ প্লাবন ও বন্যার দুর্যোগ। এর পাশাপাশি মানবসৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাবকে এটি আরও কয়েক গুণ তীব্র করে তোলে।
কোপার্নিকাসের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পর্যবেক্ষণের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল অঞ্চল ‘নিনো ৩.৪’-এ গত সেপ্টেম্বর মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছেছে। ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে ইতিপূর্বে সমুদ্রের পানির এমন উচ্চ তাপমাত্রা দেখা যায়নি। এমনকি অতীতে বিশ্বে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটানো ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ কিংবা সর্বশেষ ২০১৫-১৬ সালের বিধ্বংসী ‘সুপার এল নিনো’ পর্বেও এই অঞ্চলের তাপমাত্রা এত বেশি পৌঁছায়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অভূতপূর্ব উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মাত্রাকে এক আশঙ্কাজনক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
