ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ফুটবলপ্রেমীদের নজর আটলান্টার মাঠে। শেষ আটে ওঠার লক্ষ্যে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিশর। ম্যাচটি শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, বরং দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বেরও এক বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ। ম্যাচ চলাকালে দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউটের প্রথম ধাপে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। তবে সেই ম্যাচে রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন। স্ট্রাইকার হিসেবে লাউতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে সুযোগ পান হুলিয়ান আলভারেজ। মেসিকে ঘিরেই আক্রমণ সাজিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে মিশর ইতিহাস গড়েই এই পর্যায়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় ‘ফারাও’রা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। কোচের কৌশলের মূল ভরসা দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ।
ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় প্রশ্ন ছিল—মেসির অভিজ্ঞতা নাকি সালাহর গতি, কে পার্থক্য গড়ে দেবেন? আর্জেন্টিনা বলের দখল ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে থাকলেও মিশরের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক তাদের বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশেও ছিল বেশ কিছু চমক। আর্জেন্টিনার হয়ে গোলবারে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং আক্রমণে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে দল সাজান স্কালোনি। মিশরের আক্রমণে ছিলেন মোহাম্মদ সালাহ, সঙ্গে হাইসেম হাসান; মাঝমাঠে ইমাম আশুর ও মারাওয়ান আত্তিয়ার মতো ফুটবলাররা।
ম্যাচটি শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের জন্য নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও লড়াই। একদিকে আর্জেন্টিনার সৃজনশীল আক্রমণভাগ, অন্যদিকে মিশরের সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। ফলে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় নকআউট ম্যাচে রোমাঞ্চের সব উপাদানই উপস্থিত।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা সবসময়ই অন্যতম সফল দল হলেও মিশরের সামনে রয়েছে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ। যদি সালাহর দল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় করতে পারে, তবে সেটি হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি। অন্যদিকে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
