নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষা সংস্কার নিয়ে গবেষণাভিত্তিক ও নীতিনির্ধারণমুখী গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা : দ্য লার্নিং নেশন’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৪ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
গ্রন্থটিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের নানা দিক বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সংকট ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেছেন।
অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের সমস্যাগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। কোথাও একটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, আবার কোথাও রয়েছে জমির সংকট। এসব সমস্যা সমাধান সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন—দেশের শিক্ষা খাতে মৌলিক গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ এখনো সীমিত। “শিক্ষা আমাদের জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মতোই শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু এখনো এমন বাস্তবতা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন না করেই পরবর্তী ধাপে উন্নীত হচ্ছে,” বলেন তিনি।
এ পরিস্থিতি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ গঠনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও মানবিক করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ গ্রন্থ শিক্ষা খাতের সংকট উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী, অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুন নূর তুষারসহ আরও অনেকে।
আলোচকেরা বলেন, বইটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি স্বপ্নপত্র, যেখানে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গঠনের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
