ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ওপেক ত্যাগ আমিরাতের,শংকায় সৌদি —

ওপেক ত্যাগ আমিরাতের,শংকায় সৌদি —

সংযুক্ত আরব আমিরাত

ডেস্ক রিপোর্ট :

তেল রপ্তানিকারক ও উৎপাদনকারী দেশগুলোর দুটি জোট অরগানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস (ওপেক) এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নিল। আগামী ১ মে থেকে দেশটির পদত্যাগ কার্যকর হচ্ছে।

ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিইএএম জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ঘোষণায় ওপেক বড় ধাক্কা খাবে, বিশেষ করে জোটের প্রকৃত নেতা সৌদি আরবের জন্য শঙ্কার কারণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

এমন এক সময়ে আমিরাত এই সিদ্ধান্ত নিলো যখন হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেল পরিবহন ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জেট ফুয়েলসহ জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি হয় ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরী হয় ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএইর এই সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর সংকট ও অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।

আঞ্চলিক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু এবং ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র আমিরাত এমন একসময়ে এই সিদ্ধান্ত নিল, যখন তারা অভিযোগ করছে যে, যুদ্ধের সময় ইরানের অসংখ্য হামলা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য অন্য আরব দেশগুলোর ভূমিকা সন্তুষ্টজনক নয় ।

ওপেক ছাড়ার কারণ হিসেবে আমিরাতের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুয়ি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আঞ্চলিক শক্তিগুলোর জ্বালানি কৌশল পর্যালোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ সৌদি আরবের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আল-মাজরুয়ি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।

উল্লেখ্য আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জ্বালানি রপ্তানিকারক ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত।

আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়াটাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, তেলের দাম বাড়িয়ে ওপেক বিশ্বের বাকি দেশগুলো ঠকাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে তেলের দামের সম্পর্ক আছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন ওপেক সদস্য দেশগুলোকে রক্ষা করছে, তখন তারা তেলের উচ্চ দাম চাপিয়ে দিয়ে সুযোগ নিচ্ছে।

ওপেক সদর দপ্তর

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন, কারণ এই সংস্থাটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদন করে।

আমিরাত বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ওপেকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১। এগুলো হলো—সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুইটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।

আর ওপেকের সব সদস্যই ওপেক প্লাসের সদস্য। এই জোটে আরও আছে রাশিয়া (জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি), আজারবাইজান, বাহরাইন, ব্রুনাই, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ওমান, দক্ষিণ সুদান এবং সুদান।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে