আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর তৈরি হওয়া চরম ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মস্কোর সম্ভাব্য উসকানিমূলক ‘হাইব্রিড’ সীমান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় ১০ লাখ অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন বা প্রাণঘাতী স্থলমাইন ক্রয়ের পরিকল্পনা করছে ফিনল্যান্ড। দেশটির দীর্ঘ রুশ সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে হেলসিঙ্কি ১০ কোটি ইউরো (প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয়ের বাজেট প্রস্তুত করছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির যৌথ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
অটোয়া কনভেনশন ত্যাগ ও নতুন প্রতিরক্ষা নীতি
জাতিসংঘের ঐতিহাসিক স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ ‘অটোয়া কনভেনশন’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফিনল্যান্ড সরকার এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাশিয়ার তরফ থেকে অব্যাহত নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে গত বছর (২০২৫) এপ্রিলে ফিনল্যান্ড অটোয়া চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চুক্তির আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ফিনল্যান্ডের ওপর থেকে সম্পূর্ণ কার্যকরভাবে উঠে যায়। উল্লেখ্য, একই কারণ দেখিয়ে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডও অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে এসেছে।
নিজ দেশে উৎপাদনের অগ্রাধিকার
ফিনিশ সেনাবাহিনীর কমাণ্ড প্রধান কর্নেল রিকু মিকোনেন ফিনল্যান্ডের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এসটিটি (STT)-কে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর চাহিদানুযায়ী দ্রুত মাইন সরবরাহের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান ও তথ্যানুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে।
হেলসিঙ্কির প্রথম পছন্দ হলো ফিনল্যান্ডের নিজস্ব সামরিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোতেই যেন এসব স্থলমাইন নির্মিত হয়। কর্নেল মিকোনেন জানান, ফিনল্যান্ডের অন্তত ছয়টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এই মানের মাইন উৎপাদনে সক্ষম। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এবং ২০২৮ সাল থেকে সামরিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বিদেশ থেকে প্রস্তুতকৃত মাইন আমদানির সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের দীর্ঘ ১,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অটোয়া চুক্তি থেকে ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলোর বেরিয়ে আসা এবং সীমান্তে লাখ লাখ স্থলমাইন বিছানোর এই পরিকল্পনা উত্তর ইউরোপে এক নতুন ‘সীতল যুদ্ধ’ ও দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সামরিকীকরণের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
