ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ইরানে ধর্ম অবমাননার দায়ে কলেজছাত্রী নাজমেহকে মৃত্যুদন্ড

ইরানে ধর্ম অবমাননার দায়ে কলেজছাত্রী নাজমেহকে মৃত্যুদন্ড

নবপ্রকাশ ডেস্ক:
ইরানের কট্টরপন্থী শাসনের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে চলা বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়নের মধ্যেই গত ৩১ জানুয়ারি নাজমেহকে গ্রেফতার করা হয়। চলতি বছরের শুরু থেকেই তিনি উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি। একটি ফৌজদারি আদালতে পৃথক দু’টি মামলায় তাঁকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন।


দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বা ধর্ম নিয়ে মুখ খুললেই বিক্ষোভকারীকে ‘আল্লার শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানে। আর ধর্ম বা ধর্মীয় কোনও বিষয় নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেই সোজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান। দমন পীড়নের চেষ্টার পরেও সেই বিক্ষোভে রাশ টানতে পারেনি ইরানের প্রশাসন। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও জ্বলছে ক্ষোভের ধিকিধিকি আগুন।


প্রাণ চলে যেতে পারে জেনেও কণ্ঠরোধ হয়নি তেমনই এক প্রতিবাদী তরুণী নাজমেহ আমিনীর। সোস্যাল মিডিয়ায় ধর্ম নিয়ে পোস্ট করার কারণে ২৩ বছরের তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দিল মোজতবা খামেনির দেশ ইরান। একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে ইরানের আদালত নাজ়মেহ আমিনিকে চরম শাস্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
পাশাপাশি, ‘ধর্মদ্রোহী’ চিহ্নিত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে। সেই সময় গণবিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ‘অপারাধে’ এক যুবকের ফাঁসির শাস্তি ঘোষণা করে ইরান। আমজনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঠেকাতে আবার পুরনো পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে সাবেক পারস্যের বর্তমান প্রশাসন।


নাজমেহ হিসাবশাস্ত্র বা অ্যাকাউন্টিংয়ের ছাত্রী। চলতি বছরের শুরু থেকেই তিনি উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি। একটি ফৌজদারি আদালতে পৃথক দু’টি মামলায় তাঁকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন। ইরানি আইন অনুযায়ী, ধর্মের অবমাননা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
মাশহাদের কলেজের ছাত্রী নাজমেহ কারাগার থেকেই একটি অডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন যে বিচার বিভাগ ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ জারি করেছে। তবে, আশার বিষয় এই দণ্ডাদেশ চূড়ান্ত নয়। ইরানের সর্বোচ্চ আদালতে এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।


এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ইরান হিউম্যান রাইটস এই রায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের জন্য কোনও তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা শান্তিপূর্ণ ভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এই রায় বাতিল করার পাশাপাশি অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

 

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে