ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » রেলওয়ের বহরে নতুন ১৮ কোচ: কী কী সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা?

রেলওয়ের বহরে নতুন ১৮ কোচ: কী কী সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা?

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেন বহর আধুনিকায়ন ও সেবা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘রাইটস লিমিটেড’ (RITES Limited)-এর সঙ্গে সম্পাদিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ চুক্তির প্রথম চালান ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। প্রথম চালানে মোট ১৮টি সর্বাধুনিক এলএইচবি (Linke Hofmann Busch) ধরনের যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত খ্যাতনামা রেল কোচ কারখানায় এসব কোচ বাংলাদেশের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ নকশায় তৈরি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে জানায় যে, ১২ অক্টোবর (সোমবার) প্রথম চালানের মোট ১৮টি কোচ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে।

রাইটস লিমিটেডের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি অনুযায়ী তৈরি হতে যাওয়া সাত ধরনের কোচের মধ্যে চার ধরনের ১৮টি কোচ প্রথম চালানে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—

  • নন-এসি শোভন চেয়ার কার: ১১টি

  • এসি চেয়ার কার: ৩টি

  • এসি স্লিপার কোচ: ২টি এবং

  • এসি পাওয়ার কার (গার্ড রুম ও লাগেজ সুবিধা সম্বলিত): ২টি কোচ।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় নকশায় অভিনব পরিবর্তন

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত বাস্তবতা ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে কোচগুলোর গঠনে নজিরবিহীন কিছু কারিগরি পরিবর্তন আনা হয়েছে—

১. মজবুত ছাদ ও অতিরিক্ত লোড বহন ক্ষমতা: বাংলাদেশের ট্রেনে উৎসব-পার্বণে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বাধ্যবাধকতা ও ছাদে উঠে ভ্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কোচগুলোর ছাদ বহুগুণ শক্তিশালী ও মজবুত কাঠামোয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ওজন বহন করতে পারে।

২. উচ্চ নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড: ইউরোপীয় মানদণ্ড ‘ইএন ১৫২২৭’ (EN 15227) অনুসরণ করে তৈরি করায় এসব কোচ উচ্চমাত্রার সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সক্ষম। সংঘর্ষের ধাক্কা শুষে নিয়ে যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার ক্ষমতা রয়েছে এই অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ডিজাইনে।

৩. বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তন: ভারতে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের সিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কোচগুলো ৪১৫ ভোল্ট চালিত সিস্টেমে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আধুনিক যাত্রীসুবিধা

নতুন এসি ও নন-এসি কোচগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত রিফ্লাক্স স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও প্যাডেলযুক্ত হেলানো আসন, সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি অ্যালার্ম, আংশিক খোলা যাওয়ার মতো বায়ুরোধী গ্লাস উইন্ডো। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে এতে রাখা হয়েছে পৃথক শিশু যত্ন কক্ষ (Baby Care Room) এবং এবাদত বা প্রার্থনার জন্য সুনির্দিষ্ট কক্ষ।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও ভারতের এই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে নতুন ২০০টি কোচের চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ভারতের ‘নবরত্ন’ মর্যাদাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার ৫৫টিরও বেশি দেশে সফলতার সঙ্গে রেলওয়ে অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। প্রথম চালানের ১৮টি কোচ শিগগিরই দেশে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই এগুলোকে জাতীয় রেলে সংযোজন করা হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে