নবপ্রকাশ ডেস্ক:
দেশের কৃষি উৎপাদনে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ও ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) সম্পাদিত চুক্তির আওতায় এই সার আমদানি করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী থাইল্যান্ড সফরকালে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
আমদানির বিস্তারিত বিবরণ:
-
রাশিয়া থেকে এমওপি সার: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন’ (প্রোডিনটর্গ) থেকে জিটুজি চুক্তির অষ্টম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ৩৮৩.৮০ মার্কিন ডলার।
-
কানাডা থেকে এমওপি সার: ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন’ (সিসিসি) থেকে দুই লটে (পঞ্চম ও ষষ্ঠ লট) মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সারের জন্য ১৮৮ কোটি ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ টাকা হিসেবে দুই লটে মোট ব্যয় হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৩৮২.৩৮ মার্কিন ডলার।
-
সৌদি আরব থেকে ডিএপি সার: সৌদি আরবের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘মা’আদেন’ থেকে ২০২৬ সালের পঞ্চম লটের আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের ক্রয়মূল্য ৮৬১.৫০ মার্কিন ডলার।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, বোরো ও আসন্ন রবি মৌসুমে দেশজুড়ে রাসায়নিক সারের চাহিদা মেটাতে ও কৃষকদের সার সংকট মুক্ত রাখতে এই অগ্রাধিকারমূলক ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সারের লটগুলো দেশে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
